জাতীয়

খাগড়াছড়ির নোয়াপাড়া সীমান্তে আটকা পড়েছে বাড়ি ফিরতি কয়েকশত পাহাড়ী শ্রমজীবি: পুলিশের লাঠিচার্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা আতংকে দিন দিন প্রকট হচ্ছে শহুরে মধ্যবিত্তের জীবন। এর মধ্যে শ্রমজীবি মানুষের যেন বিনা মেঘে বজ্র ঝরছে একের পর এক। সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম,ঢাকার গাজীপুর,নারায়নগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত পাহাড়ী গামেন্ট শ্রমিকরা বাড়ি ফিরছে জীবনের তাড়নায়। বিজিএমইএর সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগান্তির শিকার হয়েছে তারাও। সময়মত বেতন না পাওয়ায় শহরে করোনার প্রকোপ তীব্র না হতে বাড়ি ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার পাহাড়ী আদিবাসী গার্মেন্ট শ্রমিক। এদিকে চট্টগ্রামের ইপিজেড এর ১৫ টি তৈরী পোশাক কারখানা ৩০-৪৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে গত কয়েক দিন আগে। বন্ধ ঘোষণার পথে রয়েছে আরো অর্ধশতাধিক কারখানা। এমনি অস্তিতিশীল পরিবেশে শহরে থাকা সম্ভব না হয়ে পাহাড়ে যার যার বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছে অনেক গার্মেন্ট শ্রমিক। আজ (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফিরতি কয়েকশত পোশাক শ্রমিক খাগড়াছড়ি সীমান্তে আটকে পড়েছে। ফটিকছড়ির নোয়াবাজার দিয়ে খাগড়াছড়ি প্রবেশরত শ্রমিকদের স্রোতকে আটকিয়ে দিয়েছে পুলিশ ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত কয়েকদিন ধরে খাগড়াছড়ি জেলার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের অভিগমনকে করোনা সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যেই খাগড়াছড়ি জেলায় সকল প্রকার মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। সেই সূত্র ধরে আজ বৃহষ্পতিবার খাগড়াছড়ি প্রবেশরত শ্রমিকদের আটকিয়ে দিয়েছে স্থানীয় আইনরক্ষাকারী বাহিনী।আটকেপড়া বাড়ি ফিরতি মানুষ প্রতিবাদ জানালে পুলিশ সেখানে লাটিচার্জ করেছে বলে জানা গেছে। এতে সুমিতা দেওয়ান ও রিতা চাকমা নামে দুইজন আদিবাসী নারী আহত হয়েছে বলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে।

জানা যায়, সুমিতা দেওয়ানের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়িতে আর রিতা চাকমার বাড়ি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাটে।তান্টু চাকমা নামের ঘটনাস্থলে আটকা পড়া একজনের ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে জানা যায় তাদেরকে ফটিকছড়ির নোয়াবাজারের স্থানীয় এক ফার্মেসীতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন- এক মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে আরেক মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি। বাড়ি ফিরতি এসব পাহাড়ী মানুষ বিনা কর্মে শহরে টিকতে না পেরে নিজ ঘরে ফিরতে চাইছেন। কিন্তু প্রশাসন করোনা সংক্রমণের আশংকায় তাদের ঢুকতে দিচ্ছে না। কিন্তু বাড়ি ফিরতি মানুষের ভোগান্তিকে বিবেচনায় নিয়ে অনেকেই এর যৌক্তিক সমাধান দাবী করছেন প্রশাসনের কাছ থেকে। তাদেরকে হয় সরকারী ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট সময় কোরান্টাইনে রেখে নিজ বাড়ি পৌঁছাতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক। অন্যথায় এসব অমানবিক লাঠি চার্জকে অযৌক্তিক বলছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনেকেই।

Back to top button