ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস চর্চা বৃদ্ধি করার আহ্বান সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা):
ক্রমেই দেশে সামাজিক অবক্ষয়, হতাশা, দূবৃত্তায়ন, দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমাজে নারী-শিশু নিপীড়ন ও সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়াবার সুযোগ কম। মুক্তিযুদ্ধের পর যেমনটি করে দেশবাসী আশা করেছিলো একটি স্থিতিশীল, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার। সময়ের ব্যবধানে মানুষের আকাঙ্খার জায়গাটুকু এখন তলানিতে নেমে এসেছে বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।
বছরের পর বছর সরকার পরিবর্তন হয় বটে কিন্তু দূবৃত্তায়নের রাজনীতি, লুটপাট, মাফিয়া চক্র ও ধর্মান্ধ শক্তিসমূহ এর ফলশ্রæতিতে রাষ্ট্রের সর্বত্ত দৃঢ়মূল তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের পথ ও মুক্তিযুদ্ধের পথ এখন জাতির কাছে ধোঁয়াসামাত্র। এখানে প্রতিনিয়ত সরকার বদলের কথা বলা হলেও সমাজে এবং রাষ্ট্রে বিজ্ঞান মনস্কতা, সাম্য, সম্প্রীতি ও শোষণ মুক্তির লড়াইয়ের কথা চাপা পড়ে যাচ্ছে। সঠিক ইতিহাসের চর্চা থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের পাশাপাশি রাজনৈতিক শক্তিসমূহ দূরে সরে যাচ্ছে। কাজেই আজকে মানবমুক্তির লড়াইকে জোরদার করতে হবে এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে বলেও মত প্রকাশ করেন বিশিষ্টজনরা।
মহান ভাষা আন্দোলনের ৭০তম বার্ষিকীতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন। ঢাকায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বিকাল ৫টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা ড. সেলুবাসিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য (ভার্চুয়াল), ডা. সারওয়ার আর্লী (ভার্চুয়াল), সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ, সানোয়ার হোসেন সামছি, জহিরুল ইসলাম জহির, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট পারভেছ হাসেম, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, অলক দাশগুপ্ত, আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল ওয়াহেদ, ঢাকা মহানগর নেতা জুবায়ের আলম প্রমুখ।
সভায় পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যেমনটি করে একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দেখতে চাই, তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঠিক চর্চা চাই। ইতিহাসের সঠিক চর্চার মধ্য দিয়েই জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান ঘটবে। তবেই সমাজে, রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদের বিলুপ্তি ঘটবে। নানান অজুহাতে দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যে সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে তা সরকারের দৈনতার ফসল। রাষ্ট্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাফিয়া ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের এজেন্ট রয়েছে এদের চিহ্নিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি মূলত মাফিয়া বেষ্টিত ব্যবসায়িক ধান্ধাবাজদের স্বার্থ রক্ষার অজুহাতমাত্র। আমরা মনেকরি সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা হারাবে। দেশ ও জাতি বিপদগ্রস্থ হবে। সমাজে থেকে মাফিয়াদের বিতাড়িত করতে হবে। জনজীবনের স্বাস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। তবেই ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সুরক্ষিত হবে।
ডা. সারওয়ার আলী বলেন, দীর্ঘ সময় থেকে বিজ্ঞান মনস্কতা ও অসাম্প্রদায়িকতার যে ধারা তা রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে কৌশলে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জাতীয়বাদী চেতনার বিকাশ আজ বিপদগ্রস্থ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র কায়েম করার উপর এখনই গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজ রাষ্ট্রে সর্বস্তরে জবাবদীহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে বৈষম্য নিরসনে জাতীয় উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। অন্ধত্ববাদকে রাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করতে হবে। তবেই আমরা মহান ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনাদের প্রকৃত অর্থে সম্মান জানাতে পারবো।


