মতামত ও বিশ্লেষণ

প্রাণবিলুপ্তির কালে মানবকূল কি টিকে থাকবে?– ফারহা তানজিম তিতিল

আজকাল নাকি সব ঘরেই অসুখ-বিসুখ অনেক বেশি। অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত এক লোকবক্তৃতায় বলছিলেন, দেশে বছরে পঞ্চাশ লাখ লোক মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত হয়ে পড়ে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে। অর্থনীতির প্রথিতযশা এই অধ্যাপক বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে নিজের গ্রামে গিয়ে খেলার সঙ্গীদেরকে আর খুঁজে পাননি। এই সঙ্গীরা জাতিতে ‘বুনো’। সঙ্গীদেরকে খুঁজতে গিয়ে তিনি খুঁজে পেলেন আদিবাসীরা কিভাবে দিনের পর দিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে সেইসব ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক অর্থনীতি। আদিবাসীদের বাধ্যতামূলেক স্থানান্তর আর চিকিৎসার অতিব্যয়ের মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক আছে? আমার মনে হয়, একই কারণে এসব ঘটনা ঘটে। নানাভাবে জনগণের সম্পদকে মুষ্টিমেয়ের দিকে চালান করার পদ্ধতির কারণে এই দুই ঘটনা ঘটে।

জলজঙ্গল আর কিছু উঁচু জমির বাংলাদেশে বা ভারতবর্ষে সত্তর হাজার বছর, মতান্তরে কুড়ি হাজার বছর আগে থেকে অস্ট্রিক জাতির মানুষেরা ছিল। আরো আগে ছিল খর্বাকৃতির পিগমিরা। তারপর দ্রাবিড় এবং মঙ্গোলয়েড মানুষদের এ অঞ্চলে আসা এবং আন্তসম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা সবাই জানে। এইসব জাতিসত্তার মিলিত ফল বাঙালি জাতি। খ্রিস্টপূর্ব সাড়ে চারশ’ বছর আগের গঙ্গারাজ্যে মিশ্র বাঙালি জাতি ছিল। আবার, অন্য জাতির সঙ্গে বৈবাহিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কে না জড়িয়ে নিজ অস্তিত্ব নিয়ে বেঁচে ছিল আরো নানা জাতির লোক। এ সময়ে সাঁওতাল, কোল, ভীল, মুন্ডা, বাঁশফোড়, চাকমা, গারো প্রভৃতি প্রায় শ’দু’য়েক জাতির বসবাস ছিল। তারা পশ্চিমবঙ্গ, নাগাল্যান্ড, আসাম, মণিপুর, বিহার এবং বর্তমান বাংলাদেশের উঁচু এলাকাগুলোতে বসবাস করছিল। আরাকানি এবং মোঘল শাসনামলে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আলাদা সীমারেখা ছিল না। মঙ্গোলীয় অনেকগুলো জাতি খ্রিস্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগে থেকেই এখানে ছিল। এমনকি ১৮৭২ সালের জনগণনায় চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকায় বাঙালি ছিল দুই শতাংশ। এই বাঙালিরা শহরেই থাকতো। ১৯৮১ সালে এখানে বাঙালির সংখ্যা হঠাৎ করে ৪১ শতাংশ হয়ে দাঁড়ায়। এই যে সংখ্যাগত এই উল্লম্ফন, সেটা পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল। রাষ্ট্রীয়ভাবে বাঙালিদের নিয়ে পাহাড়ের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে আর বাঙালি জাতির এই বৃদ্ধি থেমে থাকেনি পাহাড়ে। মধুপুর গড়ে বাঙালি আগ্রাসন আরও আগের। উত্তরাঞ্চলের আদিবাসীদের দেশত্যাগের ঘটনা ঘটছে সেই ১৯৪৭ সালের ভারতভাগের সময় থেকে। তাদেরকে বিতাড়িত করা হয়েছে, নানান কৌশলে। নির্যাতন-নিপীড়ন তো ছিলই।

এ কারণে আবুল বারাকাত তাঁর ছোটবেলার বন্ধুদেরকে খুঁজে পাননি কুষ্টিয়ায় এসে। একই কারণে ঝিনাইদহের ভাটই বাজারে বাগদীদের জমি মিয়াদের জমি হয়ে গেছে। মধুপুরে নিজের জমি বর্গা দিয়ে কামলা খাটেন রঞ্জন নকরেক। পাহাড়ের মানুষ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। বান্দরবানে গিয়ে সবাইকে থমথমে মুখে চুপ করে থাকতে দেখেছি। একজন বন্ধু বারবার চেষ্টা করেও আমার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। কার্যত সে এবং তারা নিজ এলাকায় বন্দী রয়েছে। সমতলের আদিবাসীরা ভূমি কমিশনের দাবিতে লড়ছে। আদিবাসীর জমি বাঙালির হাতে আসা, বাঙালি কৃষকের জমি শিল্প মালিকের হাতে পৌঁছানো, ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় শুয়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষ, বাঙালি জাতিকে আদিবাসী প্রমাণ করার চেষ্টা, আদিবাসীদেরকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বলা, চিকিৎসা ব্যয়ের অতিবৃদ্ধির ঘটনার মধ্যে রয়েছে আমাদের প্রাকৃতিক এবং সর্বজনের সম্পদকে কয়েকজনের সুবিধার ব্যবহার করার দর্শন। সকল মূর্খতা, বিভেদ এবং বিকৃত তথ্য এক উদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করে।

১৮৬৯ সালে টমাস হারবার্ট লেউউইন লিখছেন, ‘পাহাড়ে কোনো উষ্ণ বাতাস নেই।’ অথচ এ বছর বর্ষার আগে যখন সেখানে গেলাম, বাতাসে যে তাপ ছিল, তা মরুভূমির আবহাওয়ার কথা মনে করাচ্ছিল। চিম্বুকের চূড়ায় উঠেই অভিজ্ঞ, বরেণ্য সাংবাদিক বুদ্ধজ্যোতি চাকমা মন্তব্য করলেন ‘ন্যাড়া পাহাড়’। ভালো করে দেখলেই বোঝা যায় কেবল গাছগুলো কেটে শান্তি হয়নি, পাহাড়কে চেঁছে, কেটে একাকার করা হয়েছে। দিনে দিনে এর মাথা কেটে একে ছোটখাটো করে তোলা হবে হয়তো।

বান্দরবানের তিন উপজেলায় পর্যটন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে বছর দেড়েক আগে থেকে। সেখানে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেবল চিম্বুকের পথটাই খোলা ছিল। একই পথের বামপাশ ধরে রুমা যাবার আশা ব্যর্থ হলো। তবে পাহাড়প্রেমিকেরা এখন আর চিম্বুকে বসবাস করতে রাজি হবে না। কারণ সেখানে পানি কমে গেছে। ভ্রমণকারীদের জন্য সরকারের বানানো অতিথিশালায় পানি নেই। চিকন ধারায় পানি ঝরছিল খোদ সার্কিট হাউসের কলে। জল আর মানুষের অভাবে খাঁ খাঁ করছিল অতিথিশালার সবকিছু। ন্যাড়া পাহাড়, নিথর দেহে স্তব্ধ, অনুভূতিহীন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, বস্ত্রহরণের লজ্জায় বিমূঢ় নারীর মতো।

বাজারে বসে শোনা গেল, দালালেরা সেনা পাড়ায় তদবির চালাচ্ছে। সেনাক্যাম্পে পানি সরবরাহের জন্য প্রচুর ব্যয় করে আড়াইহাজার ফুট নিচে পর্যন্ত পাইপলাইন করার প্রস্তাব দিচ্ছে তারা। এই কথা শুনেই ভয় পেয়ে গেলাম। জনগণের পয়সা খরচ করে মাটির নিচের পানি তোলা হবে। এখানে যদি আবার উত্তরাঞ্চলের মতো পানির স্তর আরো বেশি নেমে যায়, তখন কি হবে! এক প্রবাদে শুনেছিলাম, ‘মাটির নিচের পানি মাটির নিচের প্রাণীদের জন্য।’

পর্যটন এলাকা হবার কারণে চিম্বুকে নাগরিক মানুষ আর ব্যবসায়ীদের চলাচল বেশি। শহুরে লোকেরা বেশি পানি, বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। এলাকাবাসীর পানিতে পর্যটকরা ভাগ বসানোতে পানিসংকট হয়েছে। প্রধান কারণ হয়তো আধুনিকায়ন। তবে পর্যটন একটা কারণ তো বটেই। আশপাশের কোনো ম্রো গ্রামে পানি নেই। বনবনানী, প্রাকৃতিক গাছ, পানি ধরে রাখার বাঁশ গাছ—এসব না থাকায় বর্ষার আগে পুড়ে যাচ্ছে পাহাড়। খাঁ খাঁ করছে, জ্বলছে সে। কয়েকটা ম্রো পাড়া নির্জনবাস ছেড়ে খানিকটা করে নিচে নেমে বসতি করেছে। সচরাচর ম্রোরা পাহাড়ের চূড়ায় পাড়া বা গ্রাম গড়ে তোলে। স্কুলের মাঠ পেরিয়ে বাগানপাড়ার সিঁড়িতে পা রাখলাম আমরা। এই পাড়া কিছুকাল আগে একবার নিচে নেমে এসে বসতি করেছে পানির অভাবে। পাইপ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছিল একটা হাঁড়িতে। ঘরের কাজের জন্য এই পানি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। আগামী বছরের জন্য সবাইকে প্লাস্টিক ড্রামে পানি ধরে রাখতে বলার কথা ভাবছে গ্রামপ্রধান বা কার্বারি পায়া ম্রো। এই গ্রামের ঘরগুলো ওপর থেকে নিচের দিকে আনুমানিক পাঁচশ ফুট বিস্তৃত। সিঁড়ি গুণে গুণে এই উচ্চতা হিসাব করলাম আমরা। পাড়ার ওপরে এবং নিচে একটাই ঝরনা প্রবাহিত হয়েছিল। ওপরের ঝরনাটাতে বাঁশ দিয়ে তৈরি ঢাকনা দেওয়া আছে জলাধারটি পরিষ্কার রাখার জন্য। এখন সেখানে পানি আসছে শীর্ণ ধারায়। পাথরের ওপরে চিকন জলের স্বচ্ছ ধারা দেখতে অপরূপ। ঝিঁঝিঁ ডাকছিল জোরেশোরে। দারুণ নির্জন সেই পরিবেশ।

পাড়ার সবাই তখন জুমে গেছে। কয়েকজন নারী নিচে বহুদূর থেকে আসছিলেন বাঁশের ঝাঁকাভর্তি করে পানির বোতল পিঠে নিয়ে। ধারণা করলাম, তারা দেড় হাজার ফুট নিচে গিয়েছিল পানি আনতে। এই পানি দিয়ে সারাদিনের প্রয়োজন মিটবে। ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় নারীর কাজের চাপ বেড়েছে অনেকখানি। ম্রো বাড়িতে এ কাজ প্রধানত নারীর। পানি ধরে রাখার মতো গাছপালা কমে গেছে। ওপরে থাকা পাড়ার কাছের ছড়ায় তাই দরকার মেটে না এখন। কিছুদিন আগে এক বহিরাগত ব্যবসায়ী এই এলাকার জমি লিজ নিয়েছে রিসোর্ট বানাবে বলে। এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে সে অনভিজ্ঞ। টাকা আছে বলে ব্যবসা করতে গেছে। ওই ব্যবসায়ী না বুঝে পানির ছড়ায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। একথা জানলাম সরকারি বিশ্রামাগারের রক্ষকের কাছে। অভিবাসীরা সচরাচর মায়া করে না। স্থানান্তরের আগে মায়া ত্যাগ করে তারা। নতুন স্থানে আর মায়া কী! সেখানে তাদের সাফল্যের পথ তাই সহজ হয়।

এরপর মেনলে ম্রোর ক্রামাদি পাড়ায় গেলাম। মেনলে ম্রো ক্রামা ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা। ধর্মটির বিস্তার শুরু হবার কিছুদিনের মধ্যেই মেনলে নিঁখোজ হন। সেখানে বছরে একবার ক্রামা ধর্মের অনুষ্ঠানে এই ধর্মের অনুসারীরা মিলিত হয়। অনুষ্ঠান চলার জায়গাটাতে জুমের ফসল বস্তায় ভরা চলছিল তখন। এই পাড়ার কার্বারির বাবা কয়েকদিন পরপর স্নান করছেন। কারণ একই। জলের অভাব। আমার সঙ্গীরা নিচে নামতে নামতে অদৃশ্য হয়ে গেল একজন ম্রো বন্ধুর সঙ্গে। আমি গাছতলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। এরপর যে দৃশ্য দেখলাম, তা কখনো ভুলব না। এই পাড়া সংলগ্ন আড়াই হাজার ফুট নিচের ছড়ায় নামতে সাহস করিনি আমি। ওদিকে তখন কোনো একটা ক্যাম্প থেকে বন্দুক রিহার্সালের শব্দ ভেসে আসছিল। একজন গর্ভবতী নারী আসছিলেন নিচের জুম ক্ষেতের কাজ শেষ করে। ঠাঠা রোদ জুম ক্ষেতে তখন। মেয়েটির পিঠের ঝুড়িতে কলাপাতা, খাবার এবং চাষাবাদের সামগ্রী। তাঁর পোশাক ভেজা। ভারী শরীর এবং ভারী বোঝা নিয়ে তার হেঁটে চলার খাঁড়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। চোখ সরল না। বুকটা ভারী হচ্ছিল আমার। কেমন করে পারে তারা! এতো কষ্ট করে তারা নির্জনে থাকতে চায়। আমরা আরাম বাড়াতে এই কষ্টের আবাস থেকেও তাদেরকে উঠিয়ে দিই!

এসব বর্ষা নামার আগের কথা। এবার বৃষ্টি নামতে দেরি হলো। জুমের ফসল শেষ হয়ে গেছে—যেতে যেতে বলছিল রূপা দত্ত। সে পাহাড়ে স্কুল বানিয়েছে কতক। তার নিজের পকেট, বন্ধুদের পকেট আর গ্রামবাসীর পরিশ্রম দিয়ে চলছে স্কুলগুলো। জুম চাষ নিয়ে অনেক বিরূপ কথা শোনা যায়। পাহাড়িরা নাকি জুম করে পাহাড় ধ্বংস করছে। জুম করতে জঙ্গল এবং গাছের নিচু ডালপালা কাটা হয়। সেগুলো পুড়িয়ে দিয়ে সার বানানো হয়। মাটিতে সার মিশে গেলে একবারে সাত-আট ধরণের ফসলের বীজ পোঁতা হয় মাটিতে। মাটিকে লাঙ্গল বা ট্রাক্টর দিয়ে খুঁড়ে ফেলা হয় না। রাসায়নিক সার বা বিষ কিছুই দেওয়া হয় না এই মাটিতে। কয়েকমাস পরে রোপন করা গাছে ফসলগুলো একটার পর একটা উঠতে থাকে। কয়েকমাস ধরে ফসল তোলা হয় সেখানে। বছরে একবার চাষ হয়। মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে কয়েকবছর চাষ করার পর কয়েকবছর বিরতি দেওয়া হয়। এই সময়ে আবার নতুন বাগান গড়ে ওঠে। আপনি বলবেন, এসব তো বিলাসিতা। আমাদেরকে প্রচুর খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। খাদ্যগুলো বিষাক্ত হলেও চলবে। খাবারগুলো খেয়ে সারাজীবন ওষুধ খেতে হলেও অসুবিধে নেই। আমাদের পৃথিবীতে এখন আটশ’ কোটি মানুষ। আমাদের খাবারে বিষ, মানুষের শরীর ভর্তি অসুখ। নিরাপদ পানির অভাব আছে। চাষযোগ্য জমি, রাস্তা, ঘর, স্কুল, হাসপাতাল, অফিস বানাতে গিয়ে বনভূমি কমে দশ শতাংশ হলে সমস্যা নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামাজিক দুর্যোগ বেড়ে গেলে সমস্যা নেই। কানাডার দাবানল, বাংলাদেশের সাইক্লোন, নিত্যনতুন ভাইরাসের আগমন অথবা নদীবন্ধ-জলাবদ্ধ বাংলাদেশ হলে সমস্যা নেই। আমরা সব প্রাণীকে বিলুপ্ত করে, নব্বই শতাংশ মানুষকে কষ্টে রেখে হলেও আপাত উন্নয়নের বা ভোগের বা আত্মধ্বংসের পথে এগিয়ে যাব। আমাদের মস্তিস্ক আর কাজ করে না। আমরা কলের পুতুল। আমরা ‘সোনার রাজা’র জন্য ‘হীরের খনি’ খুঁজে জীবন পার করব।

আমি পিঁপড়ের মতো নগণ্য এক প্রাণী। হোমো স্যাপিয়েন্স হয়ে কোনো শ্লাঘা অনুভব করি না। বরং বিশ্বাস করি সব প্রাণী বাঁচলে মানবজাতির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি লিখছেন, হোমো স্যাপিয়েন্স পূর্ব আফ্রিকা থেকে মাইগ্রেশনের কিছুদিনের মধ্যেই নিয়ান্ডারথাল এবং নিজেদের অন্য জ্ঞাতিসম্পর্কগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলে। স্যাপিয়েন্স কি ধ্বংসাত্মক বৈশিষ্ট্যের প্রাণী? এই প্রশ্ন তুলেছেন হারারি। এই গোত্র নিজেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তেই আছে। আদিবাসীদের আবাস্থল নষ্ট না করে বরং আদিবাসের জ্ঞানসংরক্ষণের পথে হাঁটলে ভোগের পরিমাণ কম হলেও মানবজাতির জীবনকাল দীর্ঘায়িত হতে পারে।

Back to top button