আঞ্চলিক সংবাদ
পার্বত্য চুক্তির দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে পিসিপি’র সমাবেশ
পার্বত্য চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিতে পাহাড়ী ছা্ত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েএই মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।
আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা আজ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্যারিস রোডে এসে শেষ হয়।মিছিল ও সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম স্টুডেন্ট’স ফোরাম,বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী,আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, আসারুসহ প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনসমূহ।
সমাবেশে সঞ্চালনা করেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক জীনিচ চাকমা।সমাবেশের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দাবি সম্বলিত বিবৃতি পাঠ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাজশাহী মহানগর শাখার স্কুল ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক বিজয় চাকমা।
জীনিচ চাকমা তার সঞ্চালনার শুরুতে বলেন “১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সাক্ষরিত হয়।এই চুক্তি সাক্ষরের মধ্যে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের আপামর জুম্ম জনগণ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাবার স্বপ্ন দেখেছিল।কিন্তু চুক্তির ২ যুগের অধিক সময় পরেও চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সরকারের যথাযথ উদ্যোগ ও সদিচ্ছার অভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি এখনো দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরকারী বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি,উল্টো সরকার তার ব্যর্থতা ঢাকার জন্য একতরফাভাবে প্রচার করে আসছে যে তারা চুক্তির প্রায় ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়ন করেছে যেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগরের অর্থ সম্পাদক জেন্টল চাকমা।তিনি বলেন “দীর্ঘ ২৫ বছর সরকারের উপর আস্থা রেখেও সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তো দূরের কথা তার বিপরীতে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ,অপারেশন উত্তরনের নামে নিরীহ জুম্ম জনগণের উপর মিথ্যা মামলা সহ প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে। যার কারনে জুম্ম জগনের বর্তমান অস্তিত্ব খুবই সংকটময়। সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে জুম্ম জনগণ সিংহের ন্যায় নিজেদের অধিকারের জন্য অস্তিত্বের জন্য লড়াই করবে”
আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সুশান্ত মাহাতো তার বক্তব্যে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে বলেন “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাক্ষরিত হওয়ার ২৫ বছর পর ও আজকে সে চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া সেটি সত্যির হতাশার একটি বিষয়। যার ফলে চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে আজকে পাহাড় এবং সমতলে আদিবাসীদের বেঁচে থাকার প্রধান যে অধিকার ভূমির অধিকার সেটা আজ পর্যবসিত অবস্থা রয়েছে। এর কারণে প্রতিনিয়ত পাহাড় এবং সমতলে ভূমি বেদখল চলমান রয়েছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগ্রামী সভাপতি শাকিল আহমেদ।তিনি বলেন “বাংলাদেশের বর্তমান যে সরকার ব্যবস্থা, সরকারের যারা নীতি নির্ধারণকারী রয়েছেন তারা আজকে শুধুমাত্র একশ্রেণির স্বার্থ রক্ষার্থে নিয়োজিত রয়েছেন৷ তারা আজকে শুধুমাত্র পুঁজিপতিদের যে চাওয়া-পাওয়া সেগুলো বাস্তবায়ন করার কাজে মনযোগ দিয়েছেন৷ কিন্তু এই পুঁজিপতি বাদেও রাষ্ট্রে যে অন্যান্য শ্রেণি বা জনগোষ্ঠীগুলো রয়েছে বিশেষ করে পাহাড় এবং সমতলে যে আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলো রয়েছে তাদের প্রতি সরকারের আজ কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তার বক্তব্যে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে অধিকার আদায়ে সকল পাহাড়ী ছাত্র সমাজকে আরো এক হয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান জানান৷”
আদিবাসী স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক ধনেশ টুডু তার বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের যে মৌলিক অধিকার সেগুলো আজ পূরণ করতে ব্যর্থ। রাষ্ট্রের সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আজ ব্যর্থ।”
তিনি রাষ্ট্রের সকল নাগরিকদের সকল অধিকার নিশ্চিত এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
এরপর সমাবেশের শেষ মুহূর্তে সমাপনী বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অমর বিকাশ চাকমা।তিনি বলেন “আজকে আমরা যে উদ্দেশ্যে এখানে একত্রিত হয়েছি তা বোধহয় সবার কাছেই পরিস্কার হয়ে গেছে।আর কয়েকদিনের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৫ বছর পূর্ন হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই চুক্তির ২৫ বছরে আমাদের যে আনন্দ উৎযাপনের কথা ছিল তার পরিবর্তে আজকে আমাদের বিক্ষোভ মিছিল,সমাবেশ করতে হচ্ছে। আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই চুক্তি থেকে প্রত্যাশা করেছিলো যে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিজেদের অধিকার নিয়ে সুরক্ষিত থাকবে, কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের পূর্ব পুরুষদের মতো আমাদেরকেও আজকে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করতে হচ্ছে।তাই সরকারকে পার্বত্য চুক্তির রোডম্যাপ ঘোষণা করে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার সহ ভূমি কমিশনের বিধিমালাসহ অপরাপর মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।”
