আঞ্চলিক সংবাদ

চবিতে এম এন লারমার ৮৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩(শুক্রবার), জুম্ম জাতীয় চেতনার অগ্রদূত মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২নং গেইট শাখার আয়োজনে স্মরণসভা, বিপ্লবী গান পরিবেশনা, কবিতা পাঠ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়স্থ বিশ্বশান্তি প্যাগোডা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২নং গেইট শাখার সংগ্রামী সভাপতি সত্যপ্রিয় চাকমা। সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন চাকমার সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নরেশ চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চবি সংসদের সভাপতি প্রত্যয় নাফাক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জিয়াউর রহমান, পিসিপি, চবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অন্বেষ চাকমা, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক পহেলা চাকমা প্রমুখ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি, চবি ২ নং গেইট শাখার সদস্য অপূর্ব চাকমা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পিসিপি, ২নং গেইট শাখার সদস্য রিবেক চাকমা মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী পহেলা চাকমা এম এন লারমার স্মরণে বিপ্লবী কবিতা পাঠ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নরেশ চাকমা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের ভিন্ন ভাষাভাষী সকল জাতিগোষ্ঠীকে একীভূত করে এন এন লারমা জুম্ম জাতীয়তাবাদ প্রণয়ন করেন। এম এন লারমার মহত্ত্ব, তার দূরদর্শিতা ও বিপ্লবী আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের বুঝতে হবে ধারণ করতে হবে। মহান নেতার মতো শিক্ষিত সমাজকে গ্রামে গ্রামে গিয়ে আলো জ্বালাতে হবে। তার অবাস্তবায়িত স্বপ্নকে পূর্ণ করার জন্য পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রত্যয় নাফাক বলেন, “এম এন লারমার জন্মবার্ষিকী পালন করার যে ব্যাপ্তি সেটা উপলব্ধি করা দরকার। পৃথিবীর সকল অসাম্য, বিভাজন, অন্যায়ের জায়গায় তিনি প্রাসঙ্গিক। তার আদর্শিক চিন্তাভাবনা, ন্যায়ের পক্ষের প্রতিবাদী সূর সকল অসাম্যকে প্রতিহত করার তাগিদ দেয়। আজকের এই ৮৪তম জন্মবার্ষিকীর মধ্য দিয়ে চিন্তার দূয়ার খুলে যাক সকলের।”

সাবেক শিক্ষার্থী জিয়াউর রহমান বলেন, “যে নেতা একজন আদর্শবান, ত্যাগী, বিপ্লবী হওয়ার শিক্ষা দেন তার চাইতে মহৎ কেউ হতে পারে না। তার বিপ্লবী আদর্শে দীক্ষিত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে অধিকারের বাস্তবায়নের জন্য ভাবতে হবে।”

অন্বেষ চাকমা বলেন, “সামন্তীয় ঘুণে ধরা সমাজকে পরিবর্তনে মহান নেতা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষদের জাগ্রত করেছেন। এম এন লারমার রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

পহেলা চাকমা বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে লারমার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করে এম এন লারমার মতো সমগ্র সমাজকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে।”

শুভেচ্ছা বক্তব্যে অপূর্ব চাকমা বলেন, “এম এন লারমা জুম্ম জনগণ তথা সমগ্র দেশের শোষিত, নির্যাতিত মানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকারহীন মানুষের মুক্তি পার্বত্য চুক্তির মধ্যে নিহিত। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ সমাজকে কাজ করতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে সত্যপ্রিয় চাকমা বলেন, “জুম্ম তরুণদের মহান নেতার দেখিয়ে যাওয়া পথে হাঁটতে হবে। অধিকারহারা মানুষের মুক্তির সংগ্রামে সামিল হয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে তরান্বিত করতে হবে।”

অলোচনা সভা শেষে রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীবৃন্দের অংশগ্রহণে বিপ্লবী গান পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয় এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

Back to top button