কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কমিটিতে স্থানীয় সকল আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদ্যগঠিত পরিচালনা কমিটি বাতিল করে রাখাইন, চাকমা ,তনচংগ্যা সহ কক্সবাজার জেলায় বসবাসরত সকল আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কক্সবাজার আঞ্চলিক শাখা। আজ রবিবার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতির নিকট প্রেরিত স্মারকলিপির মাধ্যমে এই দাবী জানায় আদিবাসী ফোরামের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উক্ত স্মারকলিপিতে ‘ক্ষুদ্র— নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০’ মোতাবেক প্রতিষ্ঠানে ৮০ শতাংশ আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মধ্য থেকে লোকবল নিয়োগ প্রদানের দাবিও জানানো হয়।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কক্সবাজার অঞ্চলের সভাপতি উ থোই অং বুবু রাখাইন স্বাক্ষরিত উক্ত স্মরকলিপিতে বলা হয়, গত ১২/০৩/২০২৩ইং তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানতে পারিলাম, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রর পরিচালনা কমিটি নতুন ভাবে গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বাঙালি ও রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলেও চাকমা ও তনচংগ্যা জাতিগোষ্ঠীর কোন প্রতিনিধিত্ব এখানে রাখা হয় নাই। আপনি অবগত আছেন যে, কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন দেশি এবং বিদেশি হাজারো পর্যটক এখানে এসে সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করে। আপনি এটাও জানেন যে, বাংলাদেশে বৃহত্তম বাঙালি জাতির পাশাপাশি প্রায় ৫০টির অধিক আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী স্মরণাতীতকাল থেকে বসবাস করে আসছে। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য মন্ডিত সংস্কৃতি ও জীবনবোধ এই দেশের জাতি বৈচিত্র্যতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, কক্সবাজার জেলায় বাঙালি ও রাখাইন জাতি গোষ্ঠী ব্যতীত চাকমা ও তনচংগ্যা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ শতাব্দীকাল ধরে বসবাস করে আসছে। তাদের স্বকীয় সংস্কৃতি, জীবন ধারা এবং স্বাতন্ত্র্যতা পর্যটন জেলা কক্সবাজারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। আমি অত্যন্ত দু:খ ভারাক্রান্ত মনে আপনাকে জানাচ্ছি যে, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রর পরিচালনার জন্য সদ্যগঠিত কমিটিতে রাখাইন ব্যতীত অন্য কোন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি।
উক্ত স্মারকলিপিতে আরো বলা হয় যে, আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর আঞ্চলিক সংস্কৃতি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষে সরকার ১৯৮৫ সালে উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট কক্সবাজার প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আদিবাসী সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুনাম অর্জন করে। উল্লেখ্য যে, কক্সবাজার জেলার উখিয়া টেকনাফ উপজেলায় বসবাসরত চাকমা ও তনচংগ্যা আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। ১২ এপ্রিল ২০১০ সরকার আদিবাসী/ক্ষুদ্র—নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ পাশ করে। এই আইনের আলোকেই সারাদেশে আদিবাসী/ ক্ষুদ্র—নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গুলো পরিচালিত হওয়ার বিধান রয়েছে এবং উক্ত আইনে প্রতিষ্ঠান সমূহে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ কর্মকর্তা — কর্মচারী আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মধ্য থেকে নিয়োগের বিধান থাকলেও কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বর্তমানে ১৭ (সতের) জন কর্মকর্তা কর্মচারীর মাত্র ৬ (ছয়) জন আদিবাসী। অথার্ৎ ৩৫ শতাংশ আদিবাসী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা আদিবাসী/ ক্ষুদ্র –নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ এর লঙ্ঘন।
তাই আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতির সুদৃষ্টিও কামনা করে আদিবোসী ফোরামের স্থানীয় নেতৃত্ব। উক্ত স্মারকলিপিতে কক্সবাজার জেলার আদিবাসীদের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমুহ উত্থাপন করা হয়-
১। ক্ষু নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০ আইনের অনুসারে উক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে কক্সবাজার বসবাসরত সকল আদিবাসী জতিগৌষ্ঠীর মধ্য থেকে সদস্য/সদস্যা রাখতে হবে।
২। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০ অনুসারে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ৮০% শতাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী আদিবাসীের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে।
৩। কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নাম আদিবাসী/ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট নাম করণের দাবী জানাচ্ছি।
৪। বর্তমানে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কক্ষসমূহ বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে ভাড়া প্রদানের মাধ্যমে দখল বন্ধ করতে হবে।নিরাপত্তা নিশ্চত করতে হবে।
৫। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি করার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে বৈচিত্র্যময় আদিবাসী সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। গেস্ট রুম ও ডরমেটরি গুলোতে আধুনিক সুযোগ সংযোজন করা। নিরবিছিন্ন পানি ও বিদ্যুৎ সরবারাহ নিশ্চত করতে হবে।
৬। কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নিজস্ব জমিতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির অবৈধ প্রকল্প বাতিল করতে হবে।
৭। কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অডিটোরিয়াম ও হল গুলো আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন করতে হবে।


