জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদন

পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বাড়ছে বিভ্রান্তির শঙ্কা।

আইপিনিউজ বিডি, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ডেস্ক রিপোর্টঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান পরিস্থিতি ও উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি সাম্প্রদায়িক মহল এসব ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে পাহাড়ের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস, ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপতথ্য প্রচার পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো কোনো ভিডিওর উৎস, ধারণের সময় ও স্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় সেগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভিন্ন দেশের পুরোনো ঘটনার ভিডিওকে পার্বত্য চট্টগ্রামের নতুন ঘটনার দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করা, অন্য স্থানের ভিডিওকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনা বলে প্রচার করা কিংবা ভিডিওর সঙ্গে অসত্য তথ্য জুড়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটপূর্ণ অঞ্চলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ভিডিও বা তথ্য প্রচার করলে তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দেশের মূল জনগোষ্ঠীর সাথে পাহাড়ী আদিবাসীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, উত্তেজনা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংঘাতের মতো সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার কেবল বিভ্রান্তিই বাড়ায় না, বরং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে জনসাধারণের সঠিক ধারণা গঠনের পথেও বাধা সৃষ্টি করে।

তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন, নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করা এবং ভুয়া তথ্যের প্রচার বন্ধে সম্মিলিত সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

Back to top button