জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদনশিক্ষা

শিক্ষায় বৈষম্য বন্ধ ও আদিবাসীদের ৫% কোটা পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকায় পিসিপি ও এইচডব্লিউএফের সমাবেশ

আইপিনিউজ বিডি, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা প্রতিনিধিঃ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা পুনর্বহাল কর; পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে বর্গা শিক্ষক প্রথা বন্ধ, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ, পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ,পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করার দাবিতে রাজধানী ঢাকায় পার্বত‍্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর কমিটির উদ‍্যোগে মিছিল ও ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পার্বত‍্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হ্লামংচিং মারমার সঞ্চালনায় এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমার সভাপতিত্বে মিছিল ও ছাত্র সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নেবাই অং খুমী। এছাড়াও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি অনিক কুমার দাশ, পিসিপি ঢাকা পলিটেকনিক শাখার সহ-সভাপতি ক্যারি চাকমা, গারো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন(গাসু) ঢাকা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বগত  ম্রং, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সহ সাধারণ সম্পাদক সৃজন মৃ, পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি কনেজ চাকমা এবং আদিবাসী যুব ফোরামের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক তুম্পা হাজং।

অনিক কুমার দাশ তার সংহতি বক্তব্যে বলেন, মহান শিক্ষা আন্দোলনের ৬৪ বছর পেরুলেও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার আশানুরূপ কোনো পরিবর্তন সাধিত হয়নি। ফলে শিক্ষা একটি বাণিজ্যিক পণ্যতে পরিণত হয়েছে এবং বাংলাদেশের গরীব এবং নিম্ন শ্রেণীর মানুষদের সন্তানরা শিক্ষা লাভের থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও নাজুক। শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

ক্যারি চাকমা বলেন, বিভিন্ন সরকার তাদের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে পুতুল শিক্ষা ব্যবস্থায় রুপান্তর করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করা ও সরকারি চাকরি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ৫% কোটার বিধান থাকলেও তা কার্যকর অর্থে বাস্তবায়ন না হওয়ার আদিবাসী শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়ছে। ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ছাত্র সমাজ তাদের অধিকার আদায়ে যুগ যুগ ধরে লড়াকু ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও তারা সোচ্চার থাকবে।

সংহতি বক্তব্যে স্বগত ম্রং বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের আদিবাসীরা শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং চাকরি ক্ষেত্রে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে এবং সমতলে আদিবাসীদের ওপর বৈষম্যের বিলাপ করে সমতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

সৃজন মৃ বলেন, রাষ্ট্র শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা প্রতিষ্ঠায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। যা চরম ন্যাক্কারজনক এবং হতাশাজনক। অতি শীগ্রই সমস্যাসমূহের সমাধানকল্পে দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা আরও যুগ যুগান্তর পিছিয়ে যাবে। যা আদতে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথেই বড় অন্তরায়।

কনেজ চাকমা বলেন, বৈষম্যহীন ও গণমূখী শিক্ষা ব্যবস্থার ব্রত নিয়ে তৎকালীন সময়ে শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হলেও তা এখনো অবাস্তবায়িত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নাগরিকের মৌলিক অধিকার এখনো অপ্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, পূর্বে সরকারি চাকরি এবং শিক্ষা খাতে ৫% কোটা ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে আনায় আদিবাসীরা আরও পিছিয়ে পড়ছে। এবং প্রান্তিক থেকে প্রান্তিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নির্বাচন না করে অগণতান্ত্রিক জেলা পরিষদ যাচ্ছেতাইভাবে পার্বতয় অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপেরে মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। ছাত্র সমাবেশ থেকে তিনি পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

তুম্পা হাজং বলেন, রাষ্ট্রের উচিত কাগুজে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থার কথা না বলে তা বাস্তবায়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করা। যা বাংলাদেশের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সামগ্রিক সমৃদ্ধি বয়ে আনার পথকে সুগম করবে। তিনি তার বক্তব্যে আদিবাসীদের জন্য পুনরায় সরকারি চাকরি এবং শিক্ষা খাতে ৫% কোটা বহালের দাবি জানান

৬৪তম মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে নিম্নের দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয়।

১. দেশের সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা পুনর্বহাল কর।
২. পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে বর্গা শিক্ষক প্রথা বন্ধ কর।
৩. শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ কর।
৪. পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ কর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা পাদদেশ থেকে মিছিল আরম্ভ করে কলাভবন প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলা পাদদেশে মিছিল ও সমাবেশ সমাপ্ত করা হয়। ছাত্র সমাবেশ পরবর্তী মিছিলে সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।

Back to top button