কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ হাইকোর্টের

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই লেকের রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কাপ্তাই লেকপাড় কেউ যাতে অবৈধভাবে দখল করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন আদালত।এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে ‘কাপ্তাই হ্রদ দখল জীববৈচিত্র্য হুমকিতে’ শিরোনামে একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরীর পাশাপাশি কাপ্তাই লেকের অবৈধ দখল বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ ১২ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত সোমবার (১৭ অক্টোবর) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনারি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
মূলত জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেওয়া হলে কাপ্তাই হ্রদের সৃষ্টি হয়। ১৯৫৬ সালে শুরু হয়ে ১৯৬২ সালে শেষ হয় বাঁধের নির্মাণ কাজ। বাঁধের কারণে ৫৪ হাজার একর কৃষিজমি ডুবে যায়, যা ওই এলাকার মোট কৃষিজমির ৪০ শতাংশ। এর ফলে প্রায় এক লক্ষ স্থানীয় আদিবাসী (অধিকাংশ চাকমা, কিছু হাজং ও অন্যান্য জাতির মানুষ) বরণ করতে বাধ্য হয় উদ্ভাস্তু জীবন। এর ফলে অনেকেই শরণার্থী হয়ে সেসময় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মিজোরাম, আসাম, ত্রিপুরা ও অরুণাচলে চলে যেতে বাধ্য হয়। রাঙামাটির বরকল উপজেলার বড় হরিণা এলাকা হচ্ছে বাংলাদেশ প্রান্তে হ্রদের সীমানা। এরপর ভারতের মিজোরামেও এর বিস্তৃতি আছে। মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে কর্ণফুলীর উৎপত্তি। রাঙামাটির আট উপজেলা ও খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এলাকাজুড়ে হ্রদটির অবস্থান। বর্তমানে হ্রদের আয়তন ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর। রাঙামাটি পৌর এলাকায় হ্রদের জায়গা সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে। আর কিছু জায়গা দখল হয়েছে কাপ্তাই উপজেলায়। তবে কতটা জায়গা দখল হয়েছে, কারা জড়িত, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা কোনও সংস্থার কাছে এখনও নেই।


