জাতীয়

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও সাংবাদিকের মুক্তি চায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): সম্প্রতি দেশে মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আজ এক বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে নেটওয়ার্ক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিন ও সাংবাদিকের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করেছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ জন শিক্ষক। বিবৃতিতে বলা হয়, নওগাঁয় র‌্যাব হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন সুলতানা জেসমিন। র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধগুলো এখন বিশ্ববাসী জানে, এবং একটি পশ্চিমা দেশ এই সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমান কর্তাব্যক্তিদের ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এরপরও র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেমে থাকছে না। নাগরিকদের বিচারবহির্ভূতভাবে নিপীড়ন চলছেই।

নিপীড়নমূলক কার্যক্রমে পিছিয়ে নেই আইনপ্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থাও উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনতা দিবসে দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনকে ঘিরে রাতের আঁধারে সাদা পোশাকধারী পুলিশেরা ধরে নিয়ে গেছে প্রতিবেদককে । কুখ্যাত ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে, পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে। একই আইনে মামলা দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামে দৈনিক যুগান্তরের এক সাংবাদিককেও। এই আইন যখন প্রবর্তন করা হয় এবং পরেও সরকারের মুখপাত্ররা বারবার বলেছে, যে এটি সাংবাদিকদের ওপর প্রয়োগ করা হবে না। কিন্তু এটি সবচেয়ে বেশি যে পেশার মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাংবাদিকতা অন্যতম।

সাধারণ সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের ওপরও এটি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ হয়েছে দাবি করে শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কর্তৃত্ববাদী সরকার এই আইন প্রবর্তন করেছে সমালোচকদের নিপীড়ন করে জনমানসে ভয় সৃষ্টির জন্য। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসেব অনুযায়ী এবছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে ৫৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬২তম। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর সূচকে অবস্থান কেবলই পিছিয়েছে, কখনো এগোয়নি।

নিপীড়নমূলক যন্ত্রাদির পাশাপাশি সরকার প্রপাগান্ডা মেশিনের অনুষঙ্গগুলোও বরাবরের মতো ব্যবহার করছে দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, বিশেষত যখন সরকার কিছুটা বিপদে পড়ে, তখন শিক্ষক, সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজীবী সমিতি ও সংগঠনগুলো মাঠে নামে পূর্ণ আনুগত্যের সমর্থন নিয়ে। তাদের আনুগত্যের বহর দেখে জনমানসে ওই পেশায় অধিষ্ঠিত সবার ব্যাপারে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরী হচ্ছে। যেমন একজনের মন্তব্য ও আরেকজনের ছবি দিয়ে যে ফটোকার্ড ছেপেছিল প্রথম আলো, তা সাংবাদিকতার মান ও চর্চা অনুসারে ভুল না হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ পাঠকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরী হতে পারে বিবেচনায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ফটোকার্ড সরিয়ে নেয় এবং সংশোধিত রিপোর্ট ছাপে। বিক্ষুব্ধ পক্ষ প্রেস কাউন্সিলে না গিয়ে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, তা চরম অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী মানসিকতারেই বহিঃপ্রকাশ। এরপর এডিটর গিল্ডস, সম্পাদক ফোরাম ইত্যাদি সাংবাদিকদের সংগঠন সরকারের নিবর্তনকে চিহ্নিত না করে, পত্রিকাকেই দায়ী করে। একটি টিভি চ্যানেল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে পুরো ঘটনাকে বিকৃত করে নতুন করে রিপোর্ট করে, যাকে সাক্ষী মানা হয় মামলার এজাহারে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের এরকম পদক্ষেপ বিরল এক ঘটনা, আমরা এর নিন্দা জানাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাম্প্রতিক বিবৃতির নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ তাঁদের বিবৃতিতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে বেআইনীভাবে একজন সাংবাদিককে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে একটা শব্দও উচ্চারণ না করে সরকারের এই কাণ্ডের পক্ষে নির্জলা তোষামোদী বক্তব্য হাজির করেছে, যা আমাদের চরমভাবে লজ্জিত এবং মর্মাহত করেছে! শিক্ষকদের অধিকার আদায় ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত হলেও, শিক্ষকদের দাবিদাওয়ায় তাদের মনোযোগ নেই। কোনো শিক্ষক কোনো হুমকি বা নিপীড়নের শিকার হলেও এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কোন সক্রিয়তা দেখা যায় না।

এদিকে ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নির্যাতন একটা প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিয়েছে কিন্তু সেবিষয়েও শিক্ষক সমিতির কোনো বক্তব্য নেই দাবি করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শিক্ষক সমিতি কিছু শিক্ষকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গঠনের একটা মাধ্যমে পর্যবসিত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে তারা নিজের রাজনৈতিক এবং পেশাগত উচ্চাশা পূরণের পথ সুগম করতে চেষ্টা করেন। বিনিময়ে তারা সমাজের কাছে পুরো শিক্ষকতা পেশার মান-মর্যাদাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিতে কার্পণ্য করছেন না।

উক্ত বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক নিম্নোক্ত দাবি জানিয়েছে-
১। প্রথম আলো ও যুগান্তরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে ও প্রতিবেদক শামসুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
২। সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর জন্য দায়ী র‌্যাব সদস্যদের কেবল ’ক্লোজ‘ করার মতো মৃদু শাস্তি দিলে হবে না, তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
৩। সর্বোপরি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।

উক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদানকারী দেশে বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী শুসমিন আফসানা, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গাজী মোঃ মাহবুব মুর্শিদ, বশেমুরবিপ্রব ‘র ইইই’র সহকারী অধ্যাপক ড. আরিফুজ্জামান রাজীব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরাফাত রহমান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রোফেশনালস এর গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক প্রিয়াংকা কুন্ডু, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালযয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক মিম আরাফাত মানব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজলী সেহরীন ইসলাম, বার্ড কলেজ, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর এক্সপেরিমেন্টাল হিউম্যানিটিজ এর ভিজিটিং অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোঃ কামরুল হাসান মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মার্জিয়া রহমান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক তাসমিয়াহ তাবাসসুম সাদিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জেনারেল এডুকেশন এর প্রভাষক নির্ণয় ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবর্ণা মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী ফরিদ,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)’র আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাইসুল সৌরভ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খাদিজা মিতু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর সাংবাদিকতা এ গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনিরা শরমিন,ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টল ল স্কুল এর পি এইচ ডি গবেষক অর্পিতা শামস মিজান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সহযোগী অধ্যাপক মজিবুর রহমান,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আর রাজী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস,সোয়াস লন্ডন ইউনিভার্সিটির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক প্রফেসরিয়াল রিসার্চ এসোসিয়েট স্বপন আদনান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আইনুন নাহার,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌভিক রেজা,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর ইংরেজী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সৌম্য সরকার,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম (কনক),রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক হাবিব জাকারিয়া, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এর নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিউতী সবুর প্রমুখ।

Back to top button