আদিবাসী নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে দিনাজপুরে স্মরণসভা

আইপিনিউজ, দিনাজপুর, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬: আদিবাসী, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ (জাপ) দিনাজপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণসভায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি শিবানী উরাওয়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাস্কে, জাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বাসন্তী মুর্মু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খোকন সুইটেন মুর্মু, বাংলাদেশ আদিবাসী সমিতির সভাপতি বিশ্বনাথ সিং এবং দিনাজপুর জেলা বাসদের আহ্বায়ক কিবরিয়া হোসেন প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দিনাজপুর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রানী হাঁসদা।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রয়াত সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন আজীবন আদিবাসীসহ দেশের সকল নিপীড়িত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। বিশেষ করে সমতলের আদিবাসীদের ভূমি, সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মানবাধিকার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন ও সোচ্চার এক সংগ্রামী নেতা। তাঁর চিন্তা, দর্শন ও রাজনৈতিক কর্মধারা আদিবাসী আন্দোলনের জন্য আজও আলোকবর্তিকা হয়ে আছে।
বক্তারা আরও বলেন, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন এবং আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ সরেনের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তাঁর রেখে যাওয়া পথ অনুসরণ করেই আদিবাসী অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বক্তারা।
উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথ সরেন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বারকোণা গ্রামে। তিনি ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। শৈশব থেকেই আদিবাসী সমাজ ও প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা রবীন্দ্রনাথ ছাত্রজীবনে বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
১৯৯৩ সালে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। সমতলের আদিবাসীদের পৃথক ভূমি কমিশন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি ও প্রকৃতি রক্ষার আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লা খনি বিরোধী আন্দোলন, আলফ্রেড সরেনের ভূমি আন্দোলন ও সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি রক্ষা আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আদিবাসী অধিকারের পক্ষে সক্রিয় এই নেতা ৬৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সংগ্রামী জীবন আজও আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।


