জাতীয়

পাহাড়ে শুরু হয়েছে বিজু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু-চাংক্রান এর আয়োজনঃ আজ ফুল বিজু

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা):পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ থেকে শুরু হয়েছে পাহাড়ের আদিবাসীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু-বিহু-চাংক্রান এর আনুষ্ঠানিকতা। যদিও ইতোমধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার পাহাড়ে পাহাড়ে ছেয়ে গেছে উৎসবের রঙ। গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায় শুরু হয়েছে নানা ধরণের ঐতিহ্যবাহী খেলার বাহারী আয়োজন। সেই সাথে চলছে সাংস্কৃতিক আয়োজনও। খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা আদিবাসীদের চলছে গড়ায়া নৃত্যের আনন্দ ছন্দ। মারমা আদিবাসীদের চলছে সাংগ্রাই এ জলখেলির প্রস্তুতি। নানা অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্যেও এই সময়ে উৎযাপনে মাতোয়ারা পার্বত্য চট্টগ্রামের জুমিয়া জীবন।

এদিকে গত ১০ এপ্রিল ২০২৩, রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে এই উৎসবের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু ও চাক্রান উৎসব উদ্‌যাপন কমিটি। এতে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য অঞ্চল আদিবাসী ফোরামের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, আইনজীবী ভবতোষ দেওয়ান, শিক্ষাবিদ অঞ্জুলিকা খীসা, সুজনের সাধারণ সম্পাদক জিসান বখতেয়ার প্রমুখ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী বসবাসরত জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। ১৩ ভাষাভাষীর ১৪টি জাতির অস্তিত্বকে চিরতরে মুছে দেওয়া জন্য শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্তু লারমা আরো বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের যারা প্রকৃত অধিকারী, বসবাসকারী, তাদের উৎখাত করে, বহিরাগতদের জায়গা দিয়ে আমাদের সংখ্যালঘু করে, আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে আজকে এ জায়গা থেকে আমাদের বিতাড়িত করতে চায়। পার্বত্য অঞ্চলকে আমাদের পূর্বপুরুষেরা আবাদ করে, প্রাণীর সঙ্গে লড়াই করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই ভূমি আমরা হারাতে পারি না।’ সন্তু লারমা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চুক্তি যাতে বাস্তবায়ন না হতে পারে, সে জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

এদিকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু ও চাক্রান উৎসব উপলক্ষ্যে রাঙ্গামাটির মারী স্টেডিয়ামে চলছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। গতকাল মঙ্গলবার উৎসবের আয়োজনে ছিল পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা ও গেংহুলীর আয়োজন।

আজ ফুল বিজু:

আজ বুধবার সকালে রাঙামাটি শহরের রাজবন বিহার ঘাটে ফুল ভাসানোর আয়োজনও আছে। তাছাড়া তিন পার্বত্য জেলার গ্রামে গ্রামে পাহাড়ী ছড়া কিংবা নদীতে ভাসানো হবে ফুল বিজুর পবিত্র ফুল। ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তিন দিন ব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন শুরু হবে পাহাড়ে। চাকমা আদিবাসীরা নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে এই উৎসব এর আয়োজন শুরু করবে। পরদিন পাজনসহ অন্যান্য খাবার দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হবে। তৃতীয় দিন বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পূজা-অর্চনা হবে। সম্প্রদায়ভেদে পাঁচ দিন কিংবা এক সপ্তাহ ধরে চলবে এ উৎসব।

Back to top button