সাংবাদিককে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়া সরকারের ফ্যাসিবাদি চরিত্রের নগ্ন প্রকাশঃ বাম জোট
আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামসকে সাভারে তার নিজ বাসা থেকে গতকাল ভোর রাত ৪ টায় সিআইডি পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতা ও সিপিবি’র সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি হামিদুল হক আজ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যেভাবে শামসকে তুলে নেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে এসেছে তা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানায়। এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় পুলিশ কমিশনার ও সিআইডি প্রধানের এই তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বেমালুম অস্বীকার করা। কয়েকদিন আগে, সোনারগাঁও এ সিভিল ড্রেসে আসামী ধরার নামে র্যাবের গুলিতে আবুল কাসেম নামক এক ব্যক্তিকে হত্যা, নওগাঁয় বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করে র্যাব এর হেফাজতে সুলতানা জেসমিন নামের এক নারী ভূমি কর্মকর্তার মৃত্যু রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের একেকটি নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।
বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোট সদস্য কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ রাজেকুজ্জামান রতন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের সমালোচনা করা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। ক্ষমতাসীন সরকার নানা কথায় সংবিধানের নানা অজুহাত সামনে আনলেও জনগণের সকল সাংবিধানিক অধিকারকে পায়ে দলে নিজেরা ক্ষমতায় আসীন হয়ে আছে। চাল-মাছ-মাংস-ডিমসহ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে জনজীবন দিশেহারা। মানুষের আয় কমছে, খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমছে। শ্রমজীবী মানুষের জীবনের কথা সাংবাদিক শামস তার লেখনীতে তুলে ধরেছিলেন। অথচ সরকার এই নির্বিষ সমালোচনাটুকুও গ্রহণ করতে রাজি নয়। আসলে সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই, জনরোষের ভয়ে সে মানুষের ন্যূনতম প্রতিবাদকেও সহ্য করছে না। যেকোন সমালোচনা, প্রতিবাদ কিংবা ভিন্নমতকে নির্মমভাবে দমন করা এখন সরকারের নিত্য নৈমিত্তিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে মানুষের কণ্ঠকে রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে সরকার চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পথ গ্রহণ করছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামস এর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে এই ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তি ও হুকুমদাতাদের বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিলের দাবি জানান। এই ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন প্রতিরোধে এবং মতপ্রকাশের অধিকারসহ জনগণের মৌলিক মানবিক গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্যও বিবৃতিতে আহ্বান জানানো হয়।


