লামায় রাবার কোম্পানির লোকজনের ৩০০ কলাগাছ কর্তন: বিশিষ্টজনদের ক্ষোভ

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় রাবার কোম্পানির বিরুদ্ধে আবার স্থানীয় আদিবাসীদের কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের রেং ইয়েন ম্রো কার্বারি পাড়ার বাসিন্দা রেং ইয়ুং ম্রোর রোপণ করা প্রায় ৩০০ টি কলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লামা রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ কোম্পানিকে দায়ী করেছেন ভুক্তভুগী রেং ইয়ুং ম্রো।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা জানাচ্ছে বিশিষ্টজনরা। পাহাড় ও সমতলের অনেক অধিকার কর্মী এই নিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে সমু হক নামের এক কানাডা প্রবাসী তাঁর নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “বান্দরবান লামার সরই ইউনিয়নের রেংয়েন ম্রো কার্বারি পাড়ার বাসিন্দা রেং ইয়ুং ম্রোর বাগানে রোপণ করা প্রায় ৩০০ টি কলাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। জীবন জীবীকা ধ্বংস করে দেওয়া এক গর্হিত অপরাধ। এখন এই গরীব জুম চাষীর কি হবে? পাড়াবাসী অভিযোগের আঙুল তুলেছেন লামার রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ নামক কোম্পানির বিরুদ্ধে। যদিওবা লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আমাদের প্রশ্ন দরিদ্র এই জুম চাষীর ৩০০ কলাগাছ তাহলে কে কাটলো? জুমিয়া পরিবারটির কলাবাগান কেটে দেওয়ার বিচার মিলবে কোথায় “
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের এক হত দরিদ্র ম্রো পরিবারের পাহাড়ে লাগানো কলা গাছ কে বা কারা কেটে ফেলেছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনে বিবেক তাড়িত হয়ে এই পোস্ট দেওয়া হলো৷ উপজেলা পর্যায়ে জন-প্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আছেন৷ আশাকরি তারা তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহায়তা প্রদান করবেন৷ সিভিল সার্ভিসে দায়িত্ব পালনকালে যখনি কোন ধর্তব্য অপরাধের বিষয়ে অবহিত হয়েছি লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে তদন্ত ও ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য অধস্হনদের নির্দেশ দিয়েছি ৷ বর্তমানে যারা জনগনের জান-মালের হেফাজতের দায়িত্বে আছেন তারাও অনুরূপ পদক্ষেপ নিবেন।” একজন সাবেক সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে এই প্রত্যাশা করেছেন পুলিশের সাবেক এই উর্দ্ধতন কর্মকর্তা।

এদিকে এবিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এ বিষয়ে যথাযথ বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তিনি আরো লিখেন, “সমমনা অনেক ব্যক্তি ও শিক্ষকের সহায়তায় ম্রো আদিবাসীদের জন্য লামায় একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। আর এখন এই ঘটনা। আসলেই বেদনার। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা এবং উন্নয়নকে এগিয়ে নিচ্ছি। যদি সেটা হয় তাহলে ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ এই স্লোগান ভুলে যাবেন না। (ইংরেজী থেকে অনুদিত)
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের আরেক সহযোগী অধ্যাপক ড. খায়রুল চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘লামায় আদিবাসী জনপদ আজ রাক্ষপপুরী।”
এ বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুমন মারমা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরই ইউনিয়নে জুম্মদের উপর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। যত মানববন্ধন, মিছিল, কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে ততই সেখানে সেটেলার বাঙালীরা ম্রো ও ত্রিপুরাদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিরবতা নিপীড়নকে সমর্থন দিচ্ছে। সেখানকার জুম্মদের উপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান এই ছাত্রনেতা।
উল্লেখ্য যে, বান্দরবানের লামায় রেং ইয়েন পাড়ার একমাত্র পানির উৎসে ৬ সেপ্টেম্বর বিষ প্রয়োগ করে লামা রাবার কোম্পানি’র শ্রমিকরা। এদিকে গত ২৪ এপ্রিল ইজারা নেয়া হয়েছে এমন দাবিতে ডলুছড়ি মৌজার ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০০ একর জুম ভূমির ফসল ও গাছপালা পুড়িয়ে দেয় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি। সাম্প্রতিক সময়ে আদিবাসীদের উচ্ছেদের জন্য তাদের খাবার পানির উৎসে বিষ প্রয়োগ করে রাবার কোম্পানির শ্রমিকরা। সর্বশেষ রেং ইয়েন ম্রো কার্বারি পাড়ার বাসিন্দা রেং ইয়ুং ম্রোর রোপণ করা প্রায় ৩০০ টি কলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটল।


