চবিতে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় পিসিপি’র নিন্দাঃ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পিসিপি’র সংহতি

গত ১৭ জুলাই ২০২২ রাত ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের অনতিদূরে হতাশার মোড় থেকে কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে নিয়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও সাথে থাকা তার বন্ধুকে মারধর এবং তাদের টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এলাকায় এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে।
আজ এক বিবৃতির মাধ্যমে এই নিন্দা জানায় পিপিসি’র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক অন্বেষ চাকমা বলেন, ঘটনার একদিন পর ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) চবির প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন এবং বুধবার (২০ জুলাই) ঘটনায় অজ্ঞাতনামা পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। ঘটনাটি পাঁচ দিন অতিক্রম হতে চললেও এখনো ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে কিন্তু প্রশাসনের যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে অপরাধীরা বারবার এধরনের জঘন্য ও হীন কর্মকান্ড ঘটানোর সাহস পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল বিদ্যমান থাকলেও কার্যকর ভূমিকা ও সদিচ্ছার অভাব প্রতীয়মান হচ্ছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।
এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ঘটনা ন্যাক্কারজনক ও অত্যন্ত উদ্বেগের এবং প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলার প্রতিফলন বলে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চবি শাখা মনে করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রত্যক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্ব অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপরই বর্তায় বলেও দাবী করে সংগঠনটি।
উক্ত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলার প্রতিবাদে গত ২০ জুলাই ২০২২ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচী থেকে ঘোষিত চার দফা দাবিসমূহ হলো-
১. ক্যাম্পাসে ২৪ ঘন্টা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে, ছাত্রীদের হলে প্রবেশের এবং মেডিকেলে যাবার সময়সীমা সংক্রান্ত নির্দেশনা তুলে দিতে হবে।
২. বিদ্যমান যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল বাতিল করে নতুন করে গঠন করতে হবে, যেকোনো অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১ মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে হবে।
৩. যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে বিদ্যমান অভিযোগগুলোর বিচার আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৪. চার কর্মদিবসের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবির সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সংহতি ও একাত্মতা পোষণ করে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয় উক্ত বিবৃতিতে।


