সাংস্কৃতিক জিডিপি’তে আমরা শূণ্য: ককাসের আলোচনায় ড.মেসবাহ কামাল

সুমেধ চাকমা: উন্নয়নের নামে আমরা রাস্তা, ব্রিজ, মেগা প্রজেক্ট করছি কিন্তু আমাদের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নেই। আমরা সাংস্কৃতিক জিডিপিতে শূণ্য পাচ্ছি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এবং আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সমন্বয়ক ড. মেসবাহ কামাল।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর ) সকাল ১১টায় অনলাইন প্লাটফর্ম জুম- এ সাম্প্রতিক সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে ‘আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস ’-এর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. মেসবাহ কামাল আরো বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কারণ প্রবল রাজনৈতিক ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা যদি রাজনৈতিক দলগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারে তবে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা আরো বাড়বে। সংবিধানে এখন যেটুকু অধিকার সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের দেয়া হয়েছে অন্তত সেটুকু হলেও বাস্তবায়ন করতে হবে। এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়, এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়।’
আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ককাসের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি ও সাংসদ রাশেদ খান মেনন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘গত ৫০ বছরে এ ধরণের পরিকল্পিত হামলা আর ঘটেনি। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর দুর্ভাগ্যজনক নীরবতা দেখা গেছে। সংখ্যালঘুদের উৎসব নয় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনও এখন আর নিরাপদ নেই। প্রশাসনের ব্যর্থতাও খতিয়ে দেখতে হবে।’
সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘মাননীয় সভাপতি আমি আপনাদের শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে পারলাম না। সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে হামলা করা হচ্ছে। আজও ধর্মনিরপেক্ষতা বাস্তবিক রূপ পায়নি। আমরা আশা করছিলাম ২০০৮ সালের পর সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা কমে আসবে কিন্তু বাস্তবে তা আরো বেড়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর সংখ্যালঘুদের আর আস্থা নেই। আজ সংখ্যালঘুদের মন ভেঙ্গে গেছে। তাদের পেছনে যাওয়ার আর রাস্তা নেই। তাদের হারানোর আর কিছু নেই, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বর্তমানের বিদ্যমান আইন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না।’
এছাড়া উক্ত আলোচনা সভায় জাসদ সভাপতি ও সাংসদ হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘ কুমিল্লার পূজা মন্ডপে কোরান শরীফ রাখার ঘটনা উছিলা মাত্র। ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। সারাদেশে ৪০টির বেশি জায়গায় হামলা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু সাধারণ জনগণ পাশে না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার চরিত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’
সভায় বেশ কয়েকটি দাবি ও প্রস্তাবনা করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে – সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, একটি টাস্কফোর্স গঠন, হামলা হওয়া স্থান পরিদর্শন, হামলাকারী ও তাদের মদদ দাতাদের দ্রুত বিচারের সম্মুখীন করা।
আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের টেকনোক্র্যাট সদস্য জান্নাত-এ-ফেরদৌসী’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস সদস্য শিরিন আক্তার, এম.পি ,সাংবাদিক আবু সায়েদ খান, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হাসান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, সাংবাদিক প্রণব সাহা, বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশন এর সভাপতি নির্মল রোজারিও প্রমুখ।


