আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের সীমানায় ভারতের বিমান হামলা

ভারতের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখা (লাইন অব কন্ট্রোল) পেরিয়ে পাকিস্তানের জয়েশ-ই-মোহাম্মদ, হিজবুল্লাহ মুজাহেদীন ও লস্কর-ই-তায়েবার স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে এ হামলা চালানো হয় বলে বিমানবাহিনীর সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ভারতীয় বিমানবাহিনী বলছে, তাদের ১২টি মিরেজ ২০০০ জেট বিমান এ হামলায় অংশ নেয় এবং ১ হাজার কেজি বোমা বর্ষণ করে অনেক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান এ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফ গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়। এর জবাব দিতেই ভারত এ হামলা চালিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের খবরে জানানো হয়, ভারতের বিমান হামলার বিষয়টি টের পাওয়ার পর পাকিস্তানি সেনারা প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়। তাদের তরফে পাঠানো হয় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। কিন্তু ভারতের শক্তি দেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি সেনা। কোনো রকম প্রতিরোধের সাহসই তারা দেখাতে পারেনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভোরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর বৈঠকে বসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিরাপত্তাবিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ ভারত সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা।

ভারতীয় বিমানবাহিনী বলছে, মঙ্গলবার এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়। ভোররাত সাড়ে তিনটা নাগাদ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে পড়ে বিমানসেনার মিরাজ ২০০০ ফাইটার বিমান। বেছে বেছে হামলা চালানো হয় জয়েশ-ই-মোহাম্মদের জঙ্গি ঘাঁটিগুলোতে। পুলওয়ামার হামলার পর জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর জঙ্গি ঘাঁটিগুলো পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে বেশ খানিকটা ভেতরে ঢুকে হামলা চালানো হয়। মঙ্গলবার ভোররাতে মুজফ্ফরাবাদ ও চকৌটিতে জঙ্গিশিবিরে হামলা চালানো হয়েছে। ২১ মিনিট চলেছে এ হামলা।

পাকিস্তান বলছে, হামলা চালানো হয়েছে পাকিস্তানের বালাকোটে। পাকিস্তানি বিমানবাহিনী প্রতিরোধ করেছে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে তাদের দাবি।

ভারতীয় বিমান হামলার পর জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বসেছে ওই বৈঠক। বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক বিদেশসচিব ও কূটনীতিকেরা।

source: prothom-alo

Back to top button