আঞ্চলিক সংবাদ

শেরপুরে আয়োজন হল হাজংদের ঐতিহ্যবাহী ‘নয়া খাওয়া’ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

শেরপুর প্রতিনিধি, আইপিনিউজ: শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কয়ড়াকুড়ি গ্রামে হাজং জাতির ঐতিহ্যবাহী ‘নয়া খাওয়া’ অনুষ্ঠান জেলার শত শত হাজং নারী-পুরুষ, ছাত্র-যুবদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হল। গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে শেরপুর হাজং ইয়ুথ ইউনিয়ন, আহ্বায়ক কমিটি। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে জেলার ৩৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। হাজংদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি রক্ষা, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে জেলার হাজং ছাত্র-যুব সংগঠনের একটি নতুন কমিটিও গঠিত হয় এ দিনে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস প্যাক্ট (এআইপিপি) এর মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা সোহেল হাজং। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠন শেরপুর জেলার সভাপতি সুকুমার চন্দ্র হাজং। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাম কৃষ্ণ হাজং। জেলার হাজং ছাত্র-যুবদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন ঊড়িষ্যা হাজং, অনিন্দিতা হাজং ও কুশল হাজং। জাতীয় সংগঠন ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন কল্পনা রানী হাজং ও চিন্তাহরণ হাজং। প্রথম পর্বের আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠন শেরপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল সরকার।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী হাজং আদিবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোহেল হাজং বলেন, বিভিন্ন কারণে আজ হাজং জাতির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও ভাষা বিলীনের পথে। এ সংস্কৃতি রক্ষা করা আমদের সবার দায়িত্ব। হাজংদের যে নিজস্ব সামাজিক অনুশাসন পদ্ধতি যা ‘গাও বুড়া’ বা ‘গ্রামের প্রধান শাসন পদ্ধতি’ নামে পরিচিত তা আরো সক্রিয় ও শক্তিশালী করে হাজংদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা প্রয়োজন।

এছাড়াও বক্তারা শেরপুর জেলার বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সমস্যার কথা তোলে ধরেন। তারা হাজংদের সংস্কৃতি রক্ষা ছাড়াও শিক্ষা, চাকরি, ভাষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন। বর্তমানে হাজং মেয়ে-ছেলেদের বিজাতি গমনকে তারা নেতিবাচক হিসেবে দেখেন এবং এটিকে ভবিষ্যতে হাজং জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় বড় কারণ হবে বলে মনে করেন।

দুপুরে ডাল, কালাই, লাবড়া, ভাত ও নানারকম তরকারি দিয়ে হাজং রীতিতে অতিথিদের নয়া খাওন পরিবেশন করা হয়। বিকেলে হাজংদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবর্দি উপজেলার প্রায় চারশতাধিক হাজং লোকজন এ অনুষ্ঠানে জমায়েত হয়। রামকৃষ্ণ হাজংকে সভাপতি ও দ্বীপ হাজংকে সাধারণ সম্পাদক করে শেরপুর হাজং ইয়ুথ ইউনিয়ন নামে উক্ত জেলায় একটি নতুন ছাত্র-যুব সংগঠনের কমিটি গঠিত হয়।

 

Back to top button