আঞ্চলিক সংবাদ

মহেশখালীতে রাখাইনদের ৩০০ বছরের শশ্মান দখল করতে মরিয়া একটি প্রভাবশালী মহল

কক্সবাজারের ছোট মহেশখালীর মুদিরছড়া রাখাইন পাড়ার প্রায় তিনশত বছরের পুরনো একটি শশ্মান দখল করতে একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ।

স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন জানিয়েছেন, সরকারি ১নং খাস খতিয়ান অনুযায়ী (আর,এস দাগ নং- ৩৪২৫) রাখাইন সম্প্রদায়ের শশ্মানভূমি হিসেবে ব্যবহৃত এই জমিটির পরিমাণ ১ একক ৯৪শতক। খাস জমিটির বি,এস দাগ নং- ২৫০৯। শত শত বছর ধরে এই জমিটি স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি রাখাইনদের একটি সামাজিক সম্পত্তি। জমিটি কোনকালে কোন ব্যক্তিগত দখলের অধীন ছিল না।

কিন্তু অতি সম্প্রতি আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে জমিটি দখল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে একটি প্রভাবশালী মহল। রাখাইনদের ব্যবহৃত এই শশ্মানভূমির জমিটি দখল মুক্ত করে স্থানীয় রাখাইনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ।

উপজেলা ভূমি অফিস, মহেশখালী, কক্সবাজার কর্তৃক বিগত ১১/১২/২০০১ ইং তারিখে ইস্যুকৃত স্মারক নং-১০০৭/এস,এ বন্দোবস্তি মামলা নং-৬১৪/৯০-৯১ সালের উপজেলা ভূমি অফিসে প্রতিবেদন অনুযায়ী উল্লেখ আছে বি,এস ২৫০৯নং দাগ ও ২৬৩৭ নং দাগের অন্যান্য জমি স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের সার্বজনীন শ্মশান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পাদনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত এর আশেপাশে প্রায় ৩২টি পরিবার বসবাস করছে।

এবিষয়ে স্থানীয় মদিরছড়া রাখাইন পাড়ার বাসিন্দা আওয়ান রাখাইন আইপিনিউজকে জানিয়েছেন,- বিগত ২০২২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিক থেকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জমিটি দখল করার জন্য নানান ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “জমিটি মূলত রাখাইন সম্প্রদায়ের সামাজিক সম্পত্তি। এটি সাধারণত ধর্মীয় এবং সামাজিক কাজে ব্যবহার করা হয়। জমিটি দখলমুক্ত করার জন্য আমরা বারবার স্থানীয় চেয়ারম্যান মহোদয় এবং প্রশাসনের নিকট আবেদন জানিয়ে আসছি। কিন্তু আশ্বাস দেওয়ার পরেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল কর্তৃক রাখাইনদের এই পবিত্র শশ্মানভূমি দখলের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।”

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক মংথেনহ্লা রাখাইন দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাখাইনদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অতি শীঘ্রই রাখাইনদের শশ্মানভূমি তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

Back to top button