কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে ৯ পরিবারের ৮ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

আইপিনিউজ বিডি, ১ অক্টোবর ২০২৬, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নয়টি পরিবারের পানজুমের ৮ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিবাগত রাতে পুঞ্জির পানজুমে ঢুকে দুর্বৃত্তরা এসব পানগাছ কেটে ফেলে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৩ নম্বর কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা লিকিন খংপ্তা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম ও মাসার তংপের-এই নয়টি পরিবারের পানজুমের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জুম মালিক নাসরিন পতাম বলেন, “কে বা কারা এই কাজ করেছে, তা আমরা জানি না। তবে যারা এ কাজ করেছে, তারা জানে খাসিয়াদের জীবিকা ধ্বংস করার সহজ উপায় হলো পানগাছ কেটে দেওয়া। আমরা সারাদিন জুমে কাজ করি। সেই সুযোগে রাতের আঁধারে পানজুমের গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে।”
নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির মাত্রী (প্রধান) জনি পতাম বলেন, “আমরা নিরীহ মানুষ। পান চাষ করেই আমাদের সংসার চলে। একটি পানগাছ থেকে উৎপাদন পেতে প্রায় চার বছর ধরে পরিচর্যা করতে হয়। অথচ দায়ের এক কোপে চার বছরের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ শেষ হয়ে যায়। নয়টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ এক রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা খুবই ভয়ের মধ্যে আছি। পানগাছই আমাদের প্রধান আয়ের উৎস। ইতোমধ্যে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি।”
কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, “আমাদের হয়রানির শেষ নেই। কে আমাদের জীবিকার নিরাপত্তা দেবে, তার উত্তর আমার জানা নেই। কেন খাসিয়া আদিবাসীদের জীবিকা বারবার হামলার শিকার হবে? দুষ্কৃতকারীদের বিচার হবে কি না, তা নিয়েও আমরা সন্দিহান।”
ঘটনার বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা ফিরে এলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”
এদিকে, ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবিকা পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


