৩২ বছরে পিসিপি: রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিতকরণে চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প দেখছে না সংগঠনটি

আগামীকাল ২০ মে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ১৯৮৯ সালের ৪ মে রাঙ্গামাটি’র লংগদুতে নিরীহ পাহাড়ীদের উপর সেটলার বাঙালিদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার নৃশংসতার প্রতিবাদে ঢাকার রাজপথে জেগে ওঠা পাহাড়ী ছাত্রদের মৌন মিছিল রূপ নেয় এক দ্রোহী বিষ্ফোরণের। সেই বিষ্ফোরিত স্রোত এখনো বহমান। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম ছাত্রদের এই সংগঠনটি এখনও তাঁর লড়াইয়ের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে নানাভাবে। শাসক গোষ্ঠীর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের লড়াই এখনো অব্যাহত। করোনা ভাইরাসের চলমান মহামারীর মধ্যেও নানা আয়োজনে এ দিবসটি পালন করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
মুঠোআলাপে এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা আইপিনিউজকে বলেন, আমরা পাহাড়ের মানুষ একটি কঠিন সময় পার করছি। একদিকে বৈশ্বিক করোনা মহামারী এবং অন্যদিকে পাহাড়ের চলমান বাস্তবতা। সবকিছুকে মাথায় রেখে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ তার যুগের যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব সেটা পালনে সচেষ্ট রয়েছে। করোনা বাস্তবতাকে মাথায় রেখে অনলাইন কেন্দ্রিক আয়োজনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উৎযাপন সীমাবদ্ধ রাখার কথাও বলেন এই ছাত্রনেতা। তবে যেভাবেই হোক চলমান বাস্তবতার আলোকে পাহাড়ের ছাত্র যুব সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ তার বক্তব্যকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিমত দেন নিপন ত্রিপুরা।
এদিকে সংগঠনটির ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামীকাল সকাল ১১ টায় অনলাইন আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। ‘গৌরবময় সংগ্রামের ৩২ বছর: পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র সমাজের আন্দোলন’ শীর্ষক উক্ত আলোচনা সভাটি সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ “voice of pcp-কেওক্রডং’ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। উক্ত আলোচনা সভায় সংযুক্ত থাকবেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও জাতিসংঘের এক্সপার্ট মেকানিজম অন দ্যা রাইটস অফ ইনডিজিনাস পিপলস (এমরিপ) কাউন্সিলের সদস্য বিনোতাময় ধামাই, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাবেক নেতা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বসুমিত্র চাকমা, সাংবাদিক নজরুল কবির, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারন সম্পাদক নাসির হোসের প্রিন্স, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক শান্তি দেবী তঞ্চঙ্গ্যা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও এশিয়া ইন্ডিজিনাস পিপলস্ প্যাক্ট (এআইপিপি) এর বোর্ড মেম্বার চন্দ্রা ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক অলীক মৃ প্রমুখ।
এদিকে ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের বার্তা কী- প্রশ্ন করা হলে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি জুয়েল চাকমা আইপিনিউজকে বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামের পর যে পার্বত্য চুক্তি হয়েছে তার ২৩ বছর পরও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ের মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ। পাহাড়ের জনগণের রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিতকরণের জন্য এই চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরী। তাই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য পাহাড়ের জুম্ম ছাত্র সমাজের আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সভাপতি। এই আন্দোলন বেগবান করার জন্য জুম্ম ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান এই ছাত্রনেতা। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ তার ঐতিহাসিক দায়িত্বকে কাঁধে তুলে নিয়ে আগামী দিনের আন্দোলনকে বেগবান করবে বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।


