জাতীয়

সরকার ইন্ডিজেনাস বা এথনিক পিপলদের অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ : অতিরিক্ত সচিব সিদ্দিকা খানম

সোহেল হাজং,ঢাকা: জাতীয় নীতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন, এসডিজি এবং মানবাধিকার চর্চা এবং আদিবাসী নেভিগেটর এর কাঠামো ও উপকরণসমূহ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আজ থেকে দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশন। ঢাকার গুলশান এলাকার লেক কেসল হোটেলে ২৯-৩০ জুলাই এ দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণটি চলবে। ২৯ তারিখ সকালে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাবা সিদ্দিকা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রফেসর আখতার হোসাইন। কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমার সভাপতিত্বে আইএলও-এর পক্ষ্য থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. গগণ রাজভান্ডারী। উদ্বোধনী সেশন পরিচালনায় ও আইস ব্রেকিং-এ ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর আলেক্সিউস চিছাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাবা সিদ্দিকা খানম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের এথনিক পিপল বা নৃগোষ্ঠীদের অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। জাতীয় নীতিগুলোতেও তাদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূমি অধিকার রক্ষায় কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার ইন্ডিজেনাস পিপল-দের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ইন্ডিজেনাস ও ট্রাইবাল পিপল-দের অধিকার সম্পর্কে গভীরে জানার জন্য এ দু’দিনের প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়। আশা করি সরকার ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, আইএলও এসব বিষয়ে কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় তার পক্ষে থেকে ইন্ডিজেনাস ও ট্রাইবাল পিপল ইস্যুতে এসব প্রোগ্রামে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়’ এ নীতি নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তাই সকলকে অন্তর্ভ্যূক্ত করার কথা তিনি বলেন। তিনি আদিবাসীদের ভয়েস তোলে ধরার প্রতি দৃষ্টি দেন কারণ বাংলাদেশ সরকার তাদের অধিকার রক্ষা, বিকাশ ও বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. গগণ রাজভান্ডারী তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারকে ‘ইন্ডিজেনাস এন্ড ট্রাইবাল পিপলস কনভেনশন নং ১৬৯ (১৯৮৯)’ অনুস্বাক্ষর করতে উৎসাহী করেন।

দু’দিনের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সেশন নেবেন বাংলাদেশের বিভিন্ন এক্সপার্ট বা উচ্চমানের প্রশিক্ষকগণ। তাঁদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. সাদেকা হালিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার, সিপিডি-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, চাকমা সার্কেল প্রধান রাজা দেবাশীষ রায়, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।

উদ্বোধনী অধিবেশনের পর ড. সাদেকা হালিম আন্তর্জাতিক আইনে আদিবাসীদের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার বিষয়ক একটি সেশন নেন। তিনি আইএলও কনভেনশন নং ১০৭ ধরে আদিবাসীদের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে এ কনভেনশনটি অনুস্বাক্ষর করেছিল।

অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের আদিবাসী নারী বিষয়ে একটি সেশন নেন। তিনি বলেন, আদিবাসী বলতে এ রাষ্ট্রে কে আগে বা কে পরে আসল সেটা নয় বরং যারা নানারকম অধিকার থেকে বঞ্চনা স্বীকার করে আসছে তাদের চিহ্নিত করার জন্য এ আদিবাসী টার্ম ব্যবহার করা হয়। তবে, রাষ্ট্রের অনেকেই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে কিন্তু তারা নিজেদের আদিবাসী বলে নিজেদের পরিচিতি দিতে চায় কিনা সেটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আদিবাসীদের মধ্যে কোন কোন জাতিতে (মান্দি ও খাসিয়া) মাতৃসূত্রীয় পরিবার ব্যবস্থা থাকতে পারে কিন্তু সেটা মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা নয় অর্থাৎ পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের মতো নারীদের স্বাধীনতা বা ক্ষমতা নেই। আদিবাসী নারীদের ভূমিকা বিভিন্ন আন্দোলনে রয়েছে কিন্তু দেশের ইতিহাসে তাদের অবস্থান আমরা কমই দেখতে পাই। সবসময় আমরা তাদের প্রান্তিক হিসেবেই উপস্থাপন হতে দেখি।

এ প্রশিক্ষণে সরকারি ও আদিবাসী প্রতিনিধি মিলে প্রায় ৩০জন অংশগ্রহণ করছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকারের কর্মসূচির সাথে আদিবাসীদের অন্তর্ভূক্ত করতে এবং আদিবাসী নেভিগেটর কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে এ প্রশিক্ষণটি আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও কাপেং ফাউন্ডেশন।

Back to top button