অন্যান্য

শেরপুরের নালিতাবাড়িতে জোরপূর্বক খাল খননের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী কালাকুমা ও তারানী গ্রামে রেকর্ডিয় আবাদী কৃষিজমির উপর দিয়ে টিআর-কাবিটা প্রকল্পের নামে অবৈধ ও জোরপূর্বক খাল খননের প্রতিবাদে আজ বৈশাখী বাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের আয়োজনে স্থানীয় আদিবাসী নেতা লরেন্স দ্রং এর সভাপতিত্বে ও অবৈধ খাল প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মিহির চাম্বুগংয়ের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবৈধ খাল প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও ভুক্তভোগী প্রানেশ সাংমা। এছাড়াও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সদস্য সোহেল হাজং, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান, বাংলাদেশ হদি-ক্ষত্রিয় কল্যান পরিষদের সভাপতি লিটন দেব সেন, অবৈধ খাল প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইসত্রে মজুমদার, বাগাছাস নালিতাবাড়ি শাখার সভাপতি আরাধন মৃ, লাল মিয়া সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সদস্য সোহেল হাজং বলেন, ‘রাষ্ট্র কোন এলাকায় উন্নয়ন করতে চাইলে অবশ্যই সেই এলাকার মানুষের কাছ থেকে স্বাধীন ও পূর্ব অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্তদের রেকর্ডীয় জমি হওয়া সত্বেও রাষ্ট্র এই খাল খনন প্রকল্পে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে রাষ্ট্র জনগণের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রকে দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় এই নেতা।

বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান বলেন, “সীমান্তবর্তী এই এলাকায় তথাকথিত উন্নয়নের নামে জোরপূর্বক খাল খনন করার ফলে শুধু রাষ্ট্র জনগনণের মানবাধিকার লঙ্ঘনই করেনি জনগণের জীবন-জীবিকা হুমকির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষমতাসীন কতিপয় কুচক্রীমহল অনিয়মের মাধ্যমে এই খাল খনন প্রকল্প তদারকি করছে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অবিলম্বে এই জোরপূর্বক খাল খনন প্রকল্প স্থায়ীভাবে বন্ধের জোরালো দাবি জানান এই আদিবাসী যুবনেতা।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের সভাপতি লরেন্স দ্রং বলেন, “অতীতে বৈশাখীবাজারের উত্তরে এই এলাকায় কোন খালের অস্তিত্ব ছিলনা। সামান্য আবাদি কৃষি জমির উপরেই এ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল, তাছাড়া বন্যহাতির উপদ্রবে প্রতিবছর আবাদী ফসল নষ্ট হয়। জনগণের এ দুর্দশার বিষয়টি জেনেও কতিপয় কুচক্রী মহল স্থানীয়দের সাথে কোন ধরনের আলোচনা না করে জোরপূর্বকভাবে আদিবাসীদের জমির উপর দিয়েই খাল খনন করছে। অনিয়মের মাধ্যমে এই খাল খনন দ্রুত বন্ধসহ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানান এই আদিবাসী নেতা।

দাবিসমূহঃ

১। অবিলম্বে অবৈধভাবে খাল খনন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
২। জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে খাল খননের জন্যে কৃষি জমি, বাগানের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাসহ খননকৃত খাল ভরাট করতে হবে।
৩। যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। অবৈধভাবে খাল খননের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৫। ভুক্তভোগীদের হয়রানি বন্ধ ও নিরাপত্তা করতে হবে।

সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, এএলআরডি, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম সিপিবি নালিতাবাড়ী উপজেলা শাখা, সেওয়াল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক ঐক্য শেরপুর, জনউদ্যোগ শেরপুর, বার্ড কনজার্বেশন, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ), গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু)।

উল্লেখ্য যে, টিআর (টেস্ট রিলিফ)-কাবিটার (কাজের বিনিময়ে টাকা) টাকায় ভোগাই নদী থেকে দর্শা খাল পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নকশা কিংবা সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা এ খাল কাটার কাজ বাস্তবায়ন ও তদারকি করছেন। বরুয়াজানির দর্শা খাল থেকে বিশগিরিপাড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খাল আগে থেকে রয়েছে। সেটি সংস্কারের পাশাপাশি বৈশাখী বাজার থেকে তাড়ানি গ্রামের ভোগাই নদী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নতুন খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বৈশাখী বাজার থেকে তাড়ানির দিকে খালটি কাটা শুরু হয়। ছয়-সাত ফুট গভীর এবং অন্তত ১৫ ফুট প্রশস্ত করে কাটা হয়েছে।

Back to top button