রাজধানীর কুুর্মিটোলায় ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় পিসিপি ঢাবি শাখার বিবৃতি

সতেজ চাকমা: গতকাল ০৫-০১-২০২০ ইংরেজী রোজ রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।উক্ত বিবৃতিতে সংগঠনটি জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুজয় চাকমা স্বাক্ষরিত উক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, ’রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলার মত লোক সমাগমের স্থলে এ ধরণের ঘটনা সংঘঠিত হওয়াটা অত্যন্ত উদ্ধেগের এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলার বহি:প্রকাশ।’
উক্ত বিবৃতিতে আরো বলা হয় যে, ‘এই ঘটনাটি কেবলমাত্র সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির বহি:প্রকাশ নয়, চলমান সমাজ বাস্তবতার করুচিপূর্ণ এবং অসুস্থ মস্তিষ্কেরই একটি প্রতিফলনও এটি। অন্যদিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে সমাজে যে নতুন ধরণের অপরাধ সংঘটনের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ বলেও মনে করে পিসিপি ঢাবি শাখা।
এছাড়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা আজকে নতুন নয়। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলার বাঙালিদের দ্বারা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন শৃংখলায় নিয়োজিত বাহিনী’র অনেক সদস্য কর্তৃক জুম্ম আদিবাসী নারী ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। তুমাসিং, সবিতা,বলিমিলা, সুজাতা,কৃর্তিকা ত্রিপুরা সহ অসংখ্য নাম আমাদের দীর্ঘ তালিকায় জমা পড়েছে যারা কতিপয় সেটলার বাঙালিদের দ্বারা ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে।
উক্ত বিবৃতি নিয়ে জানতে চাইতে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি লিটন চাকমা আইপিনিউজকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি ২০১৮ সালে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় আইন রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক দুই মারমা কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।কেবল পাহাড় নয় পাহাড়ের বাইরে সমতলেও অনেক আদিবাসী নারী ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে।যার কোনোটির বিচার আমরা পাইনি।’
তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ধর্ষণের বিরুদ্ধে যে কন্ঠগুলোকে যতটাই স্বোচ্চার দেখতে পাচ্ছি সেই কন্ঠগুলোকে পাহাড়ের আদিবাসী নারী ধর্ষণের ঘটনায় ততটাই নীরব ভূমিকায় দেখি। তিনি কেবল বাঙালি নারী বা আদিবাসী নারী নয়, বিশ্বের সকল নারী ধর্ষণের বিরুদ্ধে সবার সম্মিলিত প্রতিবাদ প্রত্যাশা করেন।
নারী সহিংসতা ও নারী নিপীড়ন এবং ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধির যে বিভীষিকা , তার মুলোৎপাটনে অবিলম্বে ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের সাথে জড়িতদের সহ ইতিপূর্বে সংঘটিত সকল ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবীও জানানো হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উক্ত বিবৃতিতে।