আঞ্চলিক সংবাদ

কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে ১২ পরিবারের ১০ হাজারের বেশি পানগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

আইপিনিউজ বিডি, ১ অক্টোবর ২০২৬, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১৩নং কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি (টিকসই) খাসি পুঞ্জিতে বসবাসরত ১২ টি খাসি গারো পরিবারের প্রায় ১০ হাজার পান গাছ দুর্বৃত্তরা কর্তন করেছে। এইসব পরিবারের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পাইলা পতাম, জনি পতাম, নাসরিন পতাম, শিউলি আজিম, টিউলি আজিম, ডিস্তান পতাম, লিকিন খংপ্ডা, সামা তংপের, নিস্তার পাটুয়াট, রিটেনশন পাটুয়াট, প্রবুল পতাম ও শ্যামলী খামা। পুলিশ প্রশাসন পরিদর্শন শেষে তদন্ত করছে কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত।

ক্ষতিগ্রস্ত জুম মালিক নাসরিন পতাম বলেন, “কে বা কারা এই কাজ করেছে, তা আমরা জানি না। তবে যারা এ কাজ করেছে, তারা জানে খাসিয়াদের জীবিকা ধ্বংস করার সহজ উপায় হলো পানগাছ কেটে দেওয়া। আমরা সারাদিন জুমে কাজ করি। সেই সুযোগে রাতের আঁধারে পানজুমের গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে।”
নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির মাত্রী (প্রধান) জনি পতাম বলেন, “আমরা নিরীহ মানুষ। পান চাষ করেই আমাদের সংসার চলে। একটি পানগাছ থেকে উৎপাদন পেতে প্রায় চার বছর ধরে পরিচর্যা করতে হয়। অথচ দায়ের এক কোপে চার বছরের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ শেষ হয়ে যায়। নয়টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ এক রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা খুবই ভয়ের মধ্যে আছি। পানগাছই আমাদের প্রধান আয়ের উৎস। ইতোমধ্যে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি।”

কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, “আমাদের হয়রানির শেষ নেই। কে আমাদের জীবিকার নিরাপত্তা দেবে, তার উত্তর আমার জানা নেই। কেন খাসিয়া আদিবাসীদের জীবিকা বারবার হামলার শিকার হবে? দুষ্কৃতকারীদের বিচার হবে কি না, তা নিয়েও আমরা সন্দিহান।”
ঘটনার বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা ফিরে এলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”

তিনি আরও বলেন, পান চাষ এসব পরিবারের দীর্ঘ দিনের জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এসব পান গাছ ধ্বংস করকর ফলে পরিবার গুলো শুধু আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় নি বরং তাদের দৈনিক আয় খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকা ও সন্তানদের জীবন নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে

এদিকে, ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবিকা পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এখনো পর্যন্ত মামলা করা হয়নি বলে জানা যায়।

Back to top button