খেলাধুলা

আবারও শুরু হচ্ছে ড. আর এস দেওয়ান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৪

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): এবছরও শুরু হচ্ছে ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৪। দ্বিতীয় বারের মতো আগামী ১ মার্চ হতে রাঙ্গামাটির রাঙ্গাপানিস্থ কান্ত চাকমা স্মৃতি ফুটবল মাঠে ‘ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট -২০২৪’ শুরু হবে বলে জানিয়েছে টুর্নামেন্ট আয়োজন কমিটি।

এবারের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক ছাত্রনেতা জুয়েল চাকমা এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন জিকো চাকমা। আয়োজকরা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফুটবল দল,ক্লাব কিংবা এলাকা ভিত্তিক ফুটবলারদের উক্ত টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটি আইপিনিউজকে জানান, অংশগ্রহণে ইচ্ছুক দল/ক্লাব/এলাকাকে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ২০০০/- (দুই হাজার টাকা) জমা দিতে হবে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ইং তারিখের মধ্যে দলের নাম, ম্যানেজার, কোচ এবং খেলোয়াড়দের পূর্ণ তালিকা (প্রত্যেক খেলোয়াড়ের স্টাম সাইজের ফটো) সহ আয়োজক কমিটির কাছে জমা দিয়ে দলটি নিবন্ধিত করার অনুরোধও করেছেন আয়োজকরা।

আয়োজকরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ‍জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষ্যে আন্তর্জাতিক নানা ফোরামে প্রচার কার্য চালিয়েছেন ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান। গত কয়েকবছর আগে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁর স্মৃতি স্বরূপ আমরা প্রথমবারের মত এই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করেছি ২০২২ সালে। আমরা বেশ সাড়া পেয়েছি এবং অনেক ক্রীড়ামোদী মানুষ এই আয়োজনে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। এবারও আমরা বেশ সাড়া পাবো।

ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান
উল্লেখ্য, ড. রামেন্দু শেখর দেওয়ান ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র আন্তর্জাতিক মুখপাত্রজুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচারকার্যের অন্যতম পুরোধা। তিনি ছিলেন একজন নিখাদ স্বজাতি ও স্বদেশপ্রেমিক, অত্যন্ত ত্যাগী ও সাহসী মানবাধিকার কর্মী এবং বিপ্লবী। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে তার হাত ধরে জুম্ম জনগণের অধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযানের পত্তন ঘটেছে যা ধীরে ধীরে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। জাতিসংঘে জুম্মদের পদার্পণ এবং জুম্মদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার কাজটা তিনিই প্রথম শুরু এবং প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও সাদাসিধা জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন।

ছোটকাল থেকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তাঁর লেখাপড়া শুরু হয় খাগড়াছড়ির খবংপয্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তৎসময়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম হয়ে তিনি সরকারি বৃত্তি লাভ করেন। এরপর পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম শিক্ষাবিদ, সংগ্রামী ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব চিত্ত কিশোর চাকমার প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত মহাপ্রুম এমই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে আবার সরকারি বৃত্তি লাভ করেন। তিনি ১৯৫২ সালে রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে ১৯৬১ সালে বিএসসি (অনার্স) ও ১৯৬২ সালে মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬৮ সালে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কুইন এলিজাবেথ কলেজে ভর্তি হন এবং চার বছর পর এমফিল গবেষণা সমাপ্ত করেন। এরপর ১৯৮০ সালে রসায়নে সালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর ব্যক্তিগত স্বার্থ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে জলাঞ্জলি দিয়ে অচিরেই তিনি সম্পূর্ণভাবে জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচার আন্দোলনে নিজেকে সমর্পণ করেন। জুম্ম জাতির সংগ্রামে নিজেকে সঁপে দেয়ায় ব্যক্তি জীবনে ড. দেওয়ান বিয়েও করেননি।

ড. আর এস দেওয়ানের জন্ম ৭ জানুয়ারি ১৯৩২ সালে বর্তমান খাগড়াছড়ি জেলার খবংপয্যা গ্রামে। তাঁর পিতা রমেশচন্দ্র দেওয়ান ও মাতা চন্দ্রমুখী দেওয়ান। পিতামাতার চার পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। তিনি মৃত্যুবরণ করেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের ২৯ মার্চ যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টার শহরে নিজের এপার্টমেন্টে। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

Back to top button