জাতীয়

‘আদিবাসীদের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ কম’

‘জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ অনেক কম। বাজেটে পাহাড়ে বরাদ্দ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। পাহাড়ের বাঙালি ও পাহাড়ি উভয় জন্য এই বাজেট। সমতলের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৩০ কোটি টাকা। এখানে আদিবাসীদের সঙ্গে অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের জন্য এই অর্থ রাখা হয়েছে। যা হতাশাজনক।’

‘আদিবাসী ও বাজেট’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এমন কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সোমবার আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস এ সভার আয়োজন করে।

ককাসের আহ্বায়ক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সংসদ সদস্য টিপু সুলতান, অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল। মূল প্রবদ্ধ উপস্থাপন করেন সঞ্জীব দ্রং।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, অর্থমন্ত্রী প্রতিবছর বিভিন্ন শিরোনামে বাজেট প্রদান করে থাকেন। সেগুলো মানুষকে বিভ্রান্ত করে। সংবিধানে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের কথা বলা আছে। অর্থমন্ত্রী হয়তো তা বিবেচনা আনেন না। বাজেটে সমতলের আদিবাসীদের প্রতিফলন হয়নি। বেদে হরিজন ও হিজড়াদের জন্য আলাদা উল্লেখ থাকলেও সমতল আদিবাসীদের বিষয়ে একটা বাক্য লেখা নেই। নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় এককোটি মানুষ এবং চরে বাস করে প্রায় এককোটি এই দুই কোটির মানুষ জন্য বাজেট নেই। তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

চূড়ান্ত বাজেটে আদিবাসীদের বরাদ্দ কিছুটা হলেও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন বাদশা।

টিপু সুলতান বলেন, সার্বিক বাজেটে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এই ভার আদিবাসীদের বহন করতে হবে। কিন্তু বাজেটে তাদের জন্য খুব কম বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা শুধু অযোক্তিকই নয়, অমানবিকও বটে।

অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, সমতলের আদিবাসীদের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায়, যে সামান্য বাজেট বরাদ্দ হয় তাও সঠিকভাবে বণ্টন হয় না। আগের বাজেটগুলোতেও ককাসের পক্ষ থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার দাবি থাকলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

সঞ্জীব দ্রং বাজেটে আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দকে হতাশজনক দাবি করে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো- আদিবাসী জনগণের উন্নয়নে বাজেটে পৃথক অনুচ্ছেদ যুক্ত করে অর্থ বরাদ্দ, বাজেট বক্তৃতায় আদিবাসী বিষয়ে বিবরণী যুক্ত, বাজেট বরাদ্দ ব্যয়ের জন্য সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন অথবা সমতলের আদিবাসীদের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি বা বোর্ড গঠন করা, সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাজেটে আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা, বরাদ্দের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের আদিবাসীদের কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় সে বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন এবং উচ্চ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় বৃত্তিসহ আদিবাসী নারী ও তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা।

মোকতাদির চৌধুরী বলেন যে, সমতল আদিবাসীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করা উচিত। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের ভিতরে আলাদা একটি বিভাগ খুলে তার মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হোক। এক্ষেত্রে টাকা কার মাধ্যমে কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করতে হবে।
তথ্যসূত্রঃ সমকাল

Back to top button