জাতীয়

কবি ও সাবেক সাংসদ কাজী রোজী’র মৃত্যুতে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের শোক:

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): আদিবাসীদের অকৃত্রিম বন্ধু কবি কাজী রোজীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন আদিবাসীদের বিভিন্ন সংগঠন। তিনি আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য ছিলেন। আদিবাসী জনগণের লড়াই সংগ্রামের বন্ধু ছিলেন সাবেক এই সাংসদ।
তাঁর এ মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম, আদিবাসীদের মানবাধিকার সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ।

এদিকে কবি ও সাবেক সাংসদ কাজী রোজীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের টেকনোক্র্যাট সদস্য ও বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী জান্নাত-এ-ফেরদৌসী। শোক জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, (তিনি)কলম হাতে সারাজীবন আদিবাসী, দলিত, নারীর সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। ক্যান্সারের সাথে বসবাস করেও আদিবাসী বিষয়য়ক সংসদীয় ককাসের ভিজিট গুলোতে স্বশরীরে অংশ নিয়েছেন। আদিবাসী বিষয়ে কখনো বান্দরবানের ম্রো পাড়ায়, খাগড়াছড়ি, রাজশাহী সাওঁতাল পাড়ায়, সিলেটে খাসিয়া পুনজি । পাহাড় থেকে সমতলে অসংখ্য জায়গায় । অধিকার হারা মানুষের সাথে পথ হেটেছেন বহু মিছিলে।

উল্লেখ্য যে, কবি ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রোজী রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার ভোররাত আড়াইটায় মারা গেছেন। শারীরিক জটিলতা নিয়ে তাঁকে গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কোভিড পজিটিভ হওয়ায় তাকে আইসোলেশন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল। তবে সে সময় মায়ের মস্তিষ্ক কাজ করছিল না, কিডনিতে ইনফেকশন; মাল্টি অর্গান প্রবলেম ছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান।

১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি সাতক্ষীরায় কাজী রোজীর জন্ম হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৭ সালে তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অবসর নেন।কাজী রোজী সাতক্ষীরা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদের গ্রন্থাগার সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।কাজী রোজী শৈশব থেকেই লেখালেখি করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘লড়াই’, ‘পথঘাট মানুষের নাম’ ও ‘আমার পিরানের কোনো মাপ নেই’। তিনি ২০১৮ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ২০২১ সালে ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক অর্জন করেন।

Back to top button